প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লিওনেল মেসি যেন ফুটবল মাঠে শুধুমাত্র খেলতে নামেন না, বরং নতুন কোনো রূপকথা তৈরি করতে আসেন। আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকালে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে কেপ ভার্ডের বিপক্ষে ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের রাতে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক যা করলেন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি এক ম্যাচেই ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের একগাদা রেকর্ড। কাতার বিশ্বকাপের সেই অতিমানবীয় রূপ ধারণ করে রাখা এই ম্যাচে তিনি শুধু গোলই করেননি, বরং ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে ‘গোল কুড়ি’র মাইলফলক স্পর্শ করে এক অনন্য রেকর্ডগাথা লিখেছেন এই মহাতারকা।
কেপ ভার্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেই প্রথম রেকর্ডটি গড়েন মেসি। আজ তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ৩০তম ম্যাচ খেলার অসাধারণ কীর্তি গড়লেন। এরপর ম্যাচের প্রথম গোলটি করে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা ২০-এ নিয়ে যান আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই জাদুকর। বিশ্বকাপে আর কোনো ফুটবলারই ২০টি গোল করে এমন রেকর্ড তৈরি করতে পারেনি।
এছাড়া চলতি বিশ্বকাপে আজ তিনি নিজের সপ্তম গোলটি করেছেন। এই মাধ্যমে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুটি আলাদা বিশ্বকাপে (২০২২ ও ২০২৬) অন্তত ৭টি বা তার বেশি গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েন তিনি। আর মাত্র একটি গোল করলে তিনি ১৯৩০ বিশ্বকাপে গুইলারমো স্ট্যাবিলের গড়া এক আসরে কোনো আর্জেন্টাইনের সর্বোচ্চ ৮ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবেন।
আজকের ম্যাচের পর মেসির অবদান বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছে গেছে এক নতুন উচ্চতায়। শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল মিলিয়ে নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতে তিনি ১২টি গোলে ভূমিকা রেখেছেন (৬টি গোল ও ৬টি অ্যাসিস্ট)। এর মাধ্যমে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১১টি গোলের অবদানের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন।
এছাড়া, হাঙ্গেরির গিয়র্গি সারোসি এবং ব্রাজিলের ভাভার পর ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের টানা ৫টি নকআউট ম্যাচে গোল করার নজির গড়েছেন মেসি। আর্জেন্টিনার খেলা গত ৬টি নকআউট ম্যাচের দিকে লক্ষ্য করলে মেসির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেখানে দলের ১০টি গোলের মধ্যে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি (৬ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট)।
বয়স যে তার ধার কমাতে পারেনি, তার প্রমাণ দেয় আরেকটি পরিসংখ্যান। ৩৫ বছর পার হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে একাই ১৪টি গোল করেছেন মেসি। অথচ ফুটবল ইতিহাসে ৩৫ বছর পার হওয়া পৃথিবীর অন্য সব ফুটবলার মিলিয়ে বিশ্বকাপে গোল করতে পেরেছেন মাত্র ২৫টি!
আজ ৩৯ বছর বয়সি মেসি যখন কেপ ভার্ডের ৪০ বছর বয়সি গোলরক্ষক ভোজিনহার জালে বল পাঠান, তখন আরেকটি অদ্ভুত রেকর্ড তৈরী হয়। গোলদাতা ও গোলরক্ষকের সম্মিলিত বয়স ছিল ৭৯ বছর ৬১ দিন–যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সি গোলদাতা ও গোলরক্ষকের মুখোমুখি লড়াইয়ের রেকর্ড।
এছাড়া, বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ২২টি ভিন্ন দেশের মুখোমুখি হয়ে ১৪টি দেশের বিপক্ষে গোল করার কীর্তি গড়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির এই রেকর্ডত্বের দিনে কেপ ভার্ডেকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে নিজেদের জায়গা আরও সুসংহত করল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন