প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের অন্তত তিনটি প্রাণঘাতী হামলাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মতে, চলতি বছরের মার্চের শুরুর দিকে সংঘটিত এসব হামলায় বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর ধ্বংস এবং একটি পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, হামলাগুলোতে মোট ২৪ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১২ জনই শিশু। নিহতদের অধিকাংশই নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। হামলার ফলে বহু বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ইসরাইল এখন পর্যন্ত এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে অ্যামনেস্টির নিজস্ব তদন্তেও হামলার সময় ওই এলাকাগুলোতে কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু বা সামরিক কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষকরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী সংঘাতের সময় বেসামরিক নাগরিক ও তাদের সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। যদি কোনো হামলায় সামরিক প্রয়োজনীয়তা প্রমাণিত না হয় এবং বেসামরিক মানুষের ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি হয়, তাহলে তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ কারণে সংস্থাটি একটি ‘স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক তদন্তের’ আহ্বান জানিয়েছে, যাতে হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি, দায়ীদের পরিচয় এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা যায়।
অন্যদিকে ইসরাইল দীর্ঘ সময় ধরে দাবি করে আসছে যে, তারা লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করছে এবং বেসামরিক হতাহতের জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করে, কারণ সংগঠনটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করে বলে তাদের অভিযোগ।
২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইরানের পক্ষে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর ইসরাইল লেবাননের ওপর বড় ধরনের বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এতে ব্যাপক হতাহতের পাশাপাশি দক্ষিণ লেবানন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
লেবাননের কর্তৃপক্ষের মতে, ইসরাইলি হামলায় ২৫০ জনেরও বেশি শিশু সহ ৪,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও কয়েক হাজার মানুষ। এছাড়া ১০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তারা এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতথ্ জীবন যাপন করছে।
দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমাগত বাড়ছে। অ্যামনেস্টি বলছে, দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কার্যকর রাখতে এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন