প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোকে তার দেশের জ্বালানি, খনিজ, অবকাঠামো, সামুদ্রিক, টেলিযোগাযোগ এবং কৃষি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের আমন্ত্রণে ইস্তাম্বুল সফরে গিয়ে শনিবার (৪ জুন) তিনি এই আহ্বান জানান। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় অবস্থান সমন্বয় করতে গত মার্চ মাসে মিশর, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ‘আর-৪’ কূটনৈতিক ফ্রেমওয়ার্কের সক্রিয় সদস্য এই দুই দেশ।
ইস্তাম্বুলে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করেন। এর মধ্যে রয়েছে চ্যালিক হোল্ডিংয়ের চেয়ারম্যান আহমেদ চ্যালিক, আলবায়রাক গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আলবায়রাক এবং ইউনিয়ন অব চেম্বার্স অ্যান্ড কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অব তুর্কিয়ের (টিওবিবি) প্রেসিডেন্ট রিফাত হিসারসিক্লিওগ্লু।
চ্যালিক হোল্ডিংয়ের সঙ্গে বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের জ্বালানি, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বেসরকারীকরণের নানা সম্ভাবনা তুলে ধরেন। অন্যদিকে, আলবায়রাক গ্রুপকে পাকিস্তানের সামুদ্রিক অবকাঠামো, বন্দরের আধুনিকায়ন এবং লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান তিনি।
ডিজিটাল ও প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর করতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তুর্কসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলি তাহা কোচের সঙ্গেও একটি বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি আঞ্চলিক ডিজিটাল সংযোগ শক্তিশালী করতে, নিরাপদ আন্তঃসীমান্ত ডেটা প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং ডিজিটাল অবকাঠোমোর একীকরণে একটি ‘পাকিস্তান-তুরস্ক ডিজিটাল করিডোর’ প্রতিষ্ঠার সরকারি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তুর্কসেলকে পাকিস্তানে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম তৈরিতে অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। জবাবে তুর্কসেলের সিইও পাকিস্তানের ডিজিটাল রূপান্তরের এজেন্ডার প্রশংসা করেন এবং এই উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এই সফরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী একটি বিজনেস কনফারেন্সেও ভাষণ দেবেন, যেখানে পাকিস্তানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, জ্বালানি এবং আইটি খাতের বিনিয়োগের সুযোগগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হবে। পাকিস্তান বর্তমানে জ্বালানি ঘাটতি দূর করতে, জ্বালানি আমদানি কমাতে এবং নিজস্ব খনিজ সম্পদের সঠিক ব্যবহারের জন্য ব্যাপক বৈদেশিক বিনিয়োগের চেষ্টা করছে। এই উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানসহ জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। যার অংশ হিসেবে পাকিস্তান তুরস্কের নকশা করা চারটি করভেট যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ করছে, যার দুটি তুর্কি সহায়তায় করাচি শিপইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে।
এছাড়া ড্রোন প্রযুক্তিসহ এভিওনিক্স ও নজরদারি ব্যবস্থার যৌথ উন্নয়নেও দুই দেশ কাজ করছে। এর আগে গত এপ্রিলে মধ্যপ্রাচ্য কূটনৈতিক সফরের শেষ অংশে শাহবাজ শরিফ তুরস্ক সফর করেছিলেন, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানে পাকিস্তান ও তুরস্ক একযোগে কাজ করছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন