প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অভিযোগ করেছে যে, পুলিশ বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে ঘাপটি মেরে থাকা ‘গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টদের দোসররা’ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন অ্যাক্টিভিস্টের কাছে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করছেন।
এছাড়া সংগঠনটি জানিয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব তথ্য যাচাই না করেই অতিরঞ্জিত ও মনগড়া গল্প হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
কেননা এতে দায়িত্ব পালনে ফিরে আসা পুলিশ সদস্যদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর কর্মস্পৃহা ও কার্যক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
রোববার (৯ আগস্ট) সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সই করা এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে পুলিশের ভঙ্গুর মনোবল যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে এবং বাহিনীর সদস্যরা নতুন উদ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে ফিরে আসছেন, তখন পলাতক, জনবিচ্ছিন্ন ফ্যাসিস্ট শক্তি এবং কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল একটি পরিকল্পিত অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছেন।
বহরের ভেতরে ও বাইরে গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টদের দোসররা বিভিন্ন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও নামধারী সাংবাদিকের কাছে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করছেন।
এই তথ্যের সত্যতা, প্রেক্ষাপট এবং যথার্থতা যাচাই না করে কথিত সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা সেগুলোকে অতিরঞ্জিত করে বিভিন্ন মনগড়া এবং বিভ্রান্তিকর গল্প তৈরি করছেন এবং নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করছেন।'
এছাড়া বিবৃতিতে মন্তব্য করা হয়েছে যে, দুঃখজনকভাবে এই ধরনের অপতথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা ক্রমেই ব্যক্তিবিশেষ থেকে শুরু করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এমনকি পুলিশের বাহিনীর প্রধানের বিরুদ্ধে কুৎসা ও অপপ্রচারে রূপ নিচ্ছে।
এতে দায়িত্ব পালনে ফিরে আসা পুলিশ সদস্যদের মনোবল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সামগ্রিকভাবে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর কর্মস্পৃহা ও কার্যক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অভ্যুত্থান-পরবর্তী একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীর মনোবল ও পেশাগত সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য, গুজব এবং কুৎসামূলক প্রচারণার মাধ্যমে বাহিনীকে দুর্বল করার এই অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত পুলিশ বাহিনীকে নয় বরং রাষ্ট্র, দেশের জনগণ এবং একটি স্বাভাবিক, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যাশাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীগত স্বার্থ কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য একটি সুশৃঙ্খল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে এ ধরনের দায়িত্বহীন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হতে পারে না।
এটি পেশাগত নৈতিকতা, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার পরিপন্থি।
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং পুলিশ বাহিনীকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
তিনি রাষ্ট্র, জনগণ এবং পুলিশ বাহিনীর স্বার্থে এ ধরনের অপতৎপরতায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে শনাক্ত করে প্রচলিত আইন, বিধি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অনুযায়ী কঠোর এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।
এবং বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের পুলিশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট এবং আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন