প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কার্যক্রমে ছয়জন গণনাকারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তবে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সুমনের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকে মৌখিকভাবে কাজে অংশ না নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সংশ্লিষ্টদের ফোন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের জানানো হয়েছে যে, তাদের শুমারি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে বলা হয়নি। তারা দাবি করে, ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার ফলে বিভিন্ন স্থানে মব ও বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে।
বাদ পড়া চারজন হলেন—শেখ ইমন আহমেদ, ইমরান আলী পাঠান, অপুর রায় চৌধুরী এবং শাহ আলম হৃদয়।
অভিযোগ রয়েছে যে, শেখ ইমন আহমেদ মাধবপুরের আন্দিউরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন এবং তিনি ওই ইউনিয়নের গণনাকারী হিসেবে নির্বাচিত হন। যদিও শেখ ইমন আহমেদের দাবি হচ্ছে, এআই দ্বারা তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করা হচ্ছে।
ইমরান আলী পাঠান ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি মাধবপুর পৌরসভার গণনাকারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপরদিকে, অপুর রায় চৌধুরী আদাঈর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন এবং তিনি অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ফ্যামিলি কার্ডের গণনাকারী হিসেবে উত্তীর্ণ হন। শাহ আলম হৃদয় ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের গণনাকারী হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি জুলাই আন্দোলনে যুক্ত থাকলেও ব্যারিস্টার সুমনের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
শাহ আলম হৃদয় বলেন, "আমি এখনো আশায় আছি, আমি আশাবাদী—আমি কাজ করতে পারব। মেধা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি, আমাকে বাদ দেওয়ার কারণ কি? আমি মাননীয় এমপির কাছে ন্যায়বিচার চাই।"
মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরাশউদ্দীন মন্তব্য করেন, "প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। এখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং মব আতঙ্ক থেকে প্রশাসনকে মুক্ত থাকতে হবে। এত কিছু যদি করতেই হয়, তাহলে পরীক্ষা নেওয়া হলো কেন?"
এ বিষয়ে মাধবপুরের ইউএনও মেহেদী হাসান জানান, "আমরা বাছাই কমিটির সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।" তবে, চারজনকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মাধবপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ শাকিফ ইশমাম চৌধুরী বিদ্যমান বাতিলের কারণে মন্তব্য করতে এড়িয়ে যান। পরে তার অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন