প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র শরণার্থী হিসেবে মোট ৫ হাজার ৯৪৮ জনকে গ্রহণ করেছে। শরণার্থীদের মধ্যে প্রায় সবকেই দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক ভাবা হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের জনসংখ্যা, শরণার্থী এবং অভিবাসন বিষয়ক ব্যুরো থেকে সদ্য প্রকাশিত পরিসংখ্যানের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি প্রেসিডেন্সিয়াল মেমোর প্রেক্ষিতে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প ওই মেমোতে জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক শরণার্থী গ্রহণের সংখ্যা কমিয়ে ৭ হাজার ৫০০ জনে নামিয়ে আনতে চান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
মেমোতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সেক্রেটারিরা এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪২০৪ অনুযায়ী, শরণার্থী কোটা প্রধানত দক্ষিণ আফ্রিকার আফ্রিকানারদের জন্য বরাদ্দ করা হবে। এছাড়া, দেশগুলিতে বৈষম্যের শিকার অন্যান্য ভুক্তভোগীদেরও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বার্ষিক শরণার্থী গ্রহণের এই কাটছাঁট যথার্থভাবে কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের শেষ বছর ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ১ লাখ ৬০ জন শরণার্থীকে গ্রহণ করেছিল, যা সেই সময়ের ১ লাখ ২৫ হাজার জনের সর্বোচ্চ সীমা থেকে অনেক কম।
গত অক্টোবর পর্যন্ত তথ্য অনুসারে, ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে মোট ৬ হাজার ৬৬৮ জন শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের মধ্যে তিনজন ছাড়া বাকি সবাই দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক।
গত নভেম্বরে কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে তিন আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। এই এক্সেপশনটি বাদ দিলে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ শরণার্থীদের আধিপত্য واضح।
ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে, যে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গরা— ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীদের বংশধর—দেশটির কৃষ্ণাঙ্গ জনগণের হাতে 'অন্যায় বর্ণবৈষম্য' এবং 'গণহত্যার' শিকার হচ্ছে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট বারবার এই দাবি খণ্ডন করেছেন।
বিশ্বের প্রধান ধনী ও ট্রাম্পের সাবেক সহযোগী ইলন মাস্কও একই ধরনের যুক্তি পরিবেশন করেছেন। মাস্কের জন্ম ও বেড়ে ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়াতে।
ট্রাম্পের ডেপুটি চিফ অভ স্টাফ ফর পলিসি স্টিফেন মিলার গত মে মাসে বলেন, 'দক্ষিণ আফ্রিকায় যা হচ্ছে, তা শরণার্থী কর্মসূচির উদ্দেশ্যবোধক সংজ্ঞার সাথে পুরোপুরি খাপ খায়। এটি একটি সুরক্ষিত বৈশিষ্ট্য-ভিত্তিক নিপীড়ন, যা জাতিগত পরিচয়ের সাথে সম্পর্কিত।'
শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকানদের প্রথম দলটি যখন ওয়াশিংটন ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল, তার পরপরই ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে তাদের দুর্দশার উপেক্ষা করার জন্য নিন্দা করেন। তিনি বলেন, সেখানে গণহত্যা চলছে, যা নিয়ে আপনারা আলোচনায় আসতে চান না। এটি একটি ভয়ংকর ঘটনা। দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে।
গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ট্রাম্পের এই সমস্ত দাবিগুলোর খণ্ডন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এটি মিথ্যা। ট্রাম্প যখন তাকে এই নৃশংসতার ছবি ও ভিডিও 'প্রমাণ' হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন, তখনও রামাফোসা তা নাকচ করেন।
রামাফোসার মুখপাত্র ভিনসেন্ট মাগোনিয়া এনপিআর-এ বলেন, এই শ্বেতাঙ্গদের দক্ষিণ আফ্রিকা ত্যাগ করা থামানো হবে না, যদিও তাদের দাবি ভুল। এই পদক্ষেপের কোনো আইনগত বা বাস্তব ভিত্তি নেই।
দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ক্রিসপিন ফিরি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে বলেন, শরণার্থী হওয়ার ভান করে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হিসেবে প্রবেশ করার চেষ্টা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর উদ্দেশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।
এরপর নভেম্বরের ৪০ জনেরও বেশি শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকান ট্রাম্পের এই দাবির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তাদের খোল চিঠিতে তারা ট্রাম্পকে বলেন, তারা আমেরিকার সংস্কৃতি যুদ্ধের দাবার ঘুঁটি নয়।
রয়টার্সের তথ্যমতে, ২১ মে-র এক প্রেসিডেন্সিয়াল ডিটারমিনেশন অনুযায়ী, ট্রাম্প এই বছর শরণার্থী গ্রহণের সীমা ১০ হাজার করার পরিকল্পনা করেছেন, যাতে আরও বেশি সংখ্যক শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকান যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারে।
তথ্যসূত্র : ইন্ডিপেনডেন্ট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন