প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়ায় মাত্র এক মাসের মধ্যে অন্তত আটজন প্রভাবশালী মুসলিম ধর্মীয় নেতাকে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। একসঙ্গে আবাসিক ভবনে জামাতে নামাজ নিষিদ্ধ করার বিতর্কিত পদক্ষেপ ঘিরে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা দাবি করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের পর ক্রেমলিনের জাতীয়তাবাদী অবস্থানের প্রেক্ষিতে রাশিয়ার মুসলিম সমাজ ক্রমেই বাড়তি চাপের মুখে পড়ছে।
রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম আলেমদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের ফলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত মে মাসে কারেলিয়ার সাবেক মুফতি উইসাম বার্দভিলসহ অন্তত আটজন প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতাকে আটক করা হয়েছে।
সরকারি দিক থেকে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশি কাজে বাধা দেওয়া বা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হলেও তদন্তে কয়েকজনকে নিষিদ্ধ সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই ঘটনার পটভূমিতে একটি বিতর্কিত আইন প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিলে অ্যাপার্টমেন্ট বা আবাসিক ভবনে যৌথভাবে নামাজ ও ধর্মীয় সমাবেশ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
রুশ মুসলিম নেতারা এ ব্যাপারে বলেছেন, দেশে পর্যাপ্ত মসজিদ নির্মাণের অনুমতি না দিয়েই সাধারণ মুসলমানদের বিকল্প উপাসনার পথও সংকুচিত করা হচ্ছে। সমালোচকরা মনে করছেন, আইনটি কার্যকর হলে পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়দের নিয়ে ঘরে নামাজ আদায়ও আইনি ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
রাশিয়ার স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমসের প্রধান রাভিল গাইনুতদিন এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে সরাসরি আপত্তি জানিয়েছেন। এর কিছুদিন পর থেকেই বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম আলেমদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় উঠে এসেছে।
রাশিয়ায় দুই কোটির বেশি মুসলিমের বসবাস রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ক্রেমলিনের প্রতি রাজনৈতিক আনুগত্যের বিনিময়ে Muslim ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের পর ‘অর্থোডক্স রাশিয়া’ এবং স্লাভিক জাতীয়তাবাদকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করেছে, এমনটিই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন