প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শনিবারের সকাল। ছুটির দিনের অলসতা তখনও কাটেনি অনেকের। অথচ নেত্রকোনা শহরের রাজপথে তখন ব্যস্ত একদল মানুষ। কারও হাতে ঝাড়ু, কারও হাতে কোদাল। কেউ সরাচ্ছেন জমে থাকা ময়লা, কেউ আবার পরিষ্কার করছেন পানি জমে থাকা স্থান।
সবচেয়ে নজরকাড়া দৃশ্য—পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজ হাতে ময়লা পরিষ্কার করছেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
তার পাশে হলুদ টি-শার্ট পরা একদল তরুণ। তাদের টি-শার্টে লেখা—‘লেটস রিবিল্ড আওয়ার নেশন’। প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষের এই সম্মিলিত উদ্যোগ যেন পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার নতুন এক বার্তা ছড়িয়ে দিল।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নেত্রকোনা পৌরসভা আয়োজিত ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর দ্বিতীয় সপ্তাহের কার্যক্রমে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশজুড়ে চলমান তিন মাসব্যাপী ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রামের’ অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে নেত্রকোনা পৌরসভা। তবে এ আয়োজন কেবল মশক নিধন কিংবা ময়লা পরিষ্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর মাধ্যমে নাগরিকদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অভিযানে অংশ নিয়ে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা পৌরসভার ওপর নির্ভর করলে হবে না। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।
তিনি জানান, এখন থেকে প্রতি শনিবার পর্যায়ক্রমে শহরের বিভিন্ন স্পটে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও পৌরসভা যৌথভাবে এ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, এটি কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়; ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে এ উদ্যোগকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চান তারা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা।
তিনি জানান, ডেঙ্গুর ‘হট জোন’ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি যেখানে পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগে একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণই পারে একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে।
দিনের কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওয়াহিদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিজা খাতুনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, পৌরসভার সংশ্লিষ্টরা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি ও আবর্জনা অপসারণ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা।
ছুটির দিনের সকালে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এভাবে সরাসরি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের মধ্যেও সাড়া ফেলেছে। হাতে হাত মিলিয়ে শহর পরিষ্কারের এ উদ্যোগে যেন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে একটি বার্তা—ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার দায়িত্বও সবার।
নেত্রকোনার রাজপথে ঝাড়ু-কোদালের এই দৃশ্য তাই নিছক একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়; বরং নাগরিক অংশগ্রহণে একটি পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত শহর গড়ার সম্মিলিত অঙ্গীকার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন