প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
১০ লাখ টাকার বিনিময়ে কিডনি বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে নেপালে নিয়ে এক ব্যক্তির কিডনি অপসারণের ঘটনায় জয়পুরহাটের কালাইয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা কিডনি কেনাবেচা চক্রের অন্যতম মূলহোতা আব্দুস সাত্তার ওরফে ছাত্তারকে (৫৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাতে বগুড়া সদরের পৌরপার্ক এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালাই থানার তদন্ত কর্মকর্তা দীপেন্দ্র নাথ সিংহ।
গ্রেপ্তার আব্দুস সাত্তার কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের লওনা বহুতি গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার খলিফার ছেলে।
পুলিশ জানায়, কিডনি কেনাবেচাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে কালাই থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মন্টু মিয়া আর্থিক সংকটে ছিলেন। তাঁর অসচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে একটি দালালচক্র কিডনি বিক্রির বিনিময়ে তাঁকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পর তাঁকে ঢাকায় নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। পরে কিডনি প্রতিস্থাপনের কথা বলে তাঁর পাসপোর্ট তৈরি করা হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মন্টু মিয়াকে অগ্রিম হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে তাঁকে নেপালে নিয়ে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর একটি কিডনি অপসারণের কয়েক দিন পর তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
দেশে ফেরার পর চুক্তি অনুযায়ী বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন মন্টু মিয়া। তবে অভিযোগ, আব্দুস সাত্তারসহ চক্রের অন্য সদস্যরা তাঁকে টাকা না দিয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকেন।
একপর্যায়ে প্রতিশ্রুত টাকা না পেয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নেন।
গত ১৩ জুন জয়পুরহাট আমলি আদালতে কিডনি বিক্রির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন মন্টু মিয়া। আদালতের নির্দেশে একই দিন মামলাটি কালাই থানায় রেকর্ড করা হয়।
মামলার এজাহারে বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা গ্রামের সাব্বির আহমেদ, শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক মল্লিকপাড়া গ্রামের সুমন আলী, কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান ও সাইদুর রহমান, লওনা বহুতি গ্রামের আব্দুস সাত্তার এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছোট হোসেনপুর রাজাগঞ্জ এলাকার তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরীকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরীকে কিডনি কেনাবেচা চক্রের ‘মহাজন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় অবস্থান করে জয়পুরহাটে দালাল নিয়োগের মাধ্যমে দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কিডনি বিক্রিতে রাজি করাতেন। পরে দেশ-বিদেশে কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হতো বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
কালাই থানার তদন্ত কর্মকর্তা দীপেন্দ্র নাথ সিংহ বলেন, কিডনি-সংক্রান্ত প্রতারণার মামলাটি থানায় গ্রহণের পর এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়। প্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার দিবাগত রাতে বগুড়া সদরের পৌরপার্ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করা অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন