প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে রুপার দামও বড় ধরনের পতনের কথা বলা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা এই পতনের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমে ৩ হাজার ৯৮৮ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে রুপার দাম কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৪৪ ডলার হয়ে গেছে, যা প্রায় ৬ শতাংশ কম।
গত এক সপ্তাহে রুপার দাম ১৬ শতাংশ এবং স্বর্ণের দাম ৮ শতাংশ কমে গেছে। জানুয়ারিতে সর্বকালের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর থেকে রুপার দাম অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। তখন প্রতি আউন্স রুপার দাম ছিল ১২১ ডলার এবং স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৬০০ ডলারের কোঠায় পৌঁছেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার কমার প্রত্যাশা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি, আন্তর্জাতিক উত্তেজনার চিত্র এবং প্রযুক্তি শিল্পে ধাতুর বাড়তি চাহিদা জানুয়ারির মূল্যবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে জানুয়ারির শেষ দিকে কেভিন ওয়ার্শকে ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান নিয়োগ দেয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করে। বাজারে ধারণা তৈরি হয় যে তিনি সুদের হার কমানোর পক্ষে কম আগ্রহী থাকবেন। এরপর থেকে মূল্যবান ধাতুর বাজারে চাপ বাড়তে থাকে।
স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে এস. হ্যানসেন বলেছেন, প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বিক্রির চাপ ও শক্তিশালী ডলারের কারণে মূল্যবান ধাতুর বাজার চাপের মুখোমুখি হয়েছে। বুধবার মার্কিন ডলার সূচক এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ফেডারেল রিজার্ভ কি চলতি বছরের শেষ দিকে সুদের হার বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে? গত সপ্তাহে কেভিন ওয়ার্শের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হলেও ১৮ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৯ জন অন্তত একবার সুদের হার বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন।
বিএনপি পারিবাস ফোর্টিসের প্রধান কৌশল কর্মকর্তা ফিলিপ গিজেলসের মন্তব্য, 'সুদের হার মাধ্যাকর্ষণের মতো। সুদের হার বাড়লে সেই মাধ্যাকর্ষণ শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং মূল্যবান ধাতুসহ প্রায় সব ধরনের সম্পদের দাম নিচের দিকে টেনে আনে।'
জার্মানির কমার্জব্যাংকের বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, যতদিন সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা থাকবে, ততদিন স্বর্ণের বাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
তবে সবচেয়ে বেশি বিস্ময় সৃষ্টি করেছে ইরান যুদ্ধ চলাকালীন স্বর্ণ ও রুপার আচরণ। সাধারণত আন্তর্জাতিক সংকটের সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু এবার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে স্বর্ণের দাম ২২ শতাংশের বেশি কমেছে। এএনজেডের গবেষণা বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত হলেও এবারের বাজার অস্থিরতায় স্বর্ণ বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত সুরক্ষা দিতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতির ওপর নির্ভর করছে। যদি ফেড সুদের হার বৃদ্ধি করে, তবে স্বর্ণের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সুদের হার স্থিতিশীল থাকলে বা ভবিষ্যতে কমানোর ইঙ্গিত এলে মূল্যবান ধাতুর বাজারে আবারও ইতিবাচক ধারা ফিরে আসতে পারে।
ফলস্বরূপ, এখন স্বর্ণে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি নজর রাখতে হবে ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত, ডলারের গতিপ্রবাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দিকে।
সূত্র- ফোর্বস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন