প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমস্ত নিয়োগের পর্যালোচনা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যে শিক্ষকেরা অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং সেখানে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে কালের কণ্ঠকে অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
নিয়োগ পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া, একই সময়সীমায় বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ (HEQEP) প্রকল্পের আওতাধীন সব গবেষণা কার্যক্রমও পর্যালোচনার চিন্তা করেছে সিন্ডিকেট। এই গবেষণায় প্রকল্পের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হয়েছে কিনা, তা তদন্ত করার জন্য উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে একটি আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সিন্ডিকেট আরও চার সদস্যের একটি টিম গঠন করেছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যে শিক্ষকরা অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। এই টিমের মধ্যে উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য এবং সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ’ প্ল্যাটফর্মের দেওয়া ১২৫ জন শিক্ষকের তালিকাটি এই টিম পর্যালোচনা করবে এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের শনাক্ত করবে। অভিযুক্ত শিক্ষকরা যদি কোন শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত হন, তবে ওই সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত করা হবে।
এদিকে, সিন্ডিকেট সভা চলাকালে ডাকসু, হল সংসদ ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা সভাস্থল ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের হলে থাকার মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে নতুন সিট বণ্টন নীতিমালা সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদিত হবে বলে অভিযোগ করে তারা প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীরা সভাস্থলের সামনে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেন, যা সভাকক্ষে প্রবেশ করে।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে সিন্ডিকেট সভায় প্রস্তাবিত সিট বণ্টন নীতিমালাটি অনুমোদিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও আলোচনা করা হবে এবং পরে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়াও, সভা চলাকালীন যারা হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করেছেন, তাদের গতিবিধি ভিজ্যুয়াল ফুটেজ দেখে যাচাই করার কথাও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সিন্ডিকেট সভায় ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিত, ঔষধপ্রযুক্তি বিভাগের আবু সারা শামসুর রউফ, ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দীন, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের ড. রফিক শাহরিয়ার, নিউক্লিয়ার ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলী, অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামকে বিভিন্ন অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার, শাস্তি এবং অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন