প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ ৪ বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে চাঞ্চল্যকর শিপ্রা রানী দাস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। মূলহোতা তাজুল ইসলাম ওরফে কাজলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
সোমবার সকালে তাকেকে নোয়াখালী জেলা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআই কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। এর আগে রবিবার রাতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত তাজুল ইসলাম নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর গ্রামের মৃত ফুল মিয়ার ছেলে। পিবিআই জানায়, পরকীয়া প্রেম এবং বø্যাকমেইল এর জের ধরেই শিপ্রা রানীকে হত্যা করে তাজুল ইসলাম। পরে ঘাতক তাজুল নিজেকে রক্ষায় নোয়াখালী জেলায় নাম পরিবর্তন করে লালন নাম পরিচয় নিয়ে বসবাস শুরু করে এবং মাটি কাটার কাজ করছিল।
সোমবার দুপুরে শহরের ভাদুঘরে পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানান পিবিআই এর পুলিশ সুপার শচীন চাকমা। পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল গ্রামের সবিনয় দাসের স্ত্রী শিপ্রা রানী দাস। তিনি রান্নার সহকারী হিসেবে নরসিংদীর কালু সাহা বাবুর্চির সাথে কাজ করতে গিয়ে কালু বাবুর্চির অপর সহযোগী তাজুল ইসলামের সাথে পরিচিত হন। পরবর্তীতে তারা পরকীয়া প্রেম ও অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে শিপ্রা তাদের গোপন সম্পর্ক সকলের কাছে ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দিয়ে তাজুলের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবী করে। এতে তাজুল ক্ষিপ্ত হয়ে শিপ্রাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের ১ অক্টোবর তাজুল কাজের কথা বলে শিপ্রাকে নিয়ে নরসিংদীর মির্জারচর থেকে নৌকায় করে নবীনগরের চরলাপাং গ্রামে যায়। পরে সেখান থেকে নবীপুর চর এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর গলা টিপে শিপ্রাকে হত্যা করে। এই ঘটনার তিনদিন পর ৪ অক্টোবর নবীনগর থানার পুলিশ শিপ্রার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তার পরিচয় সনাক্ত হওয়ার পর শিপ্রার স্বামী ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারী নবীনগর থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনাটি ক্লুলেস হওয়ায় এর তদন্ত পায় পিবিআই। পরে পিবিআই ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর কালু বাবুর্চিকে গ্রেফতার করে। সেই সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।
একপর্যায়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শাহদাত হোসেন তথ্য প্রযুক্তিগত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হন এবং নোয়াখালী থেকে ঘাতক তাজুলকে গ্রেফতার করেন। তিনি আরো জানান, ঘাতক তাজুল ইতিমধ্যে এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন