প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁদপুরের কচুয়ায় টিনশেড ঘরের সিঁদ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে বৃদ্ধা ফাতেমা বেগমকে (৭৫) হত্যার ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে পুলিশ মূল রহস্য উন্মোচন করেছে। এ হত্যা মামলায় ইয়াসিন মিয়াঁজী নামে এক চিহ্নিত চোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) রাতে উপজেলার সাচার পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামির কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণের চেইন এবং একটি জোড়া দুল উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে, সোমবার সকালে উপজেলার পাথৈর ইউনিয়নের বারকোটা গ্রামের মিয়াঁজী বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মৃত সাদেক হোসেনের স্ত্রী ফাতেমা বেগমের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশি হেফাজতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ইয়াসিন মিয়াঁজী চুরির উদ্দেশ্যে ঘরে প্রবেশ করে ফাতেমা বেগমকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে।
স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, রোববার (২৮ জুন) দিনগত গভীর রাতে ঘরের কাঁচা ভিটার মাটি খুঁড়ে সিঁদ কেটে একা ভেতরে প্রবেশ করে ইয়াসিন। সে ঘরে উপস্থিত আলমারি ও অন্যান্য মালপত্রের মধ্যে হাত বাড়াতে থাকলে বৃদ্ধা ফাতেমা বেগম জেগে ওঠেন। এ সময় তিনি ইয়াসিনকে চিনে ফেলেন এবং চিৎকার করে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত ও আতঙ্কিত হয়ে সে ধৃত ইয়াসিন তার কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে ফাতেমা বেগমের গলায় আঘাত করে।
অতিরিক্ত রক্ত প্রবাহিত হতে শুরু করার পর বৃদ্ধার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ইয়াসিন তাঁর কান ও গলা কেটে পালানোর জন্য ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন ও একটি জোড়া দুল সঙ্গে নিয়ে চম্পট দেয়। পরে সে পালিয়ে যেতে পারেনি, বরং তাৎক্ষণিকভাবে সে এলাকায় আত্মগোপনে থাকে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) জানান, সোমবার বিকেলে চাঁদপুরের নতুন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জেলায় যোগদানের পরপরই জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তাৎক্ষণিক পর্যালোচনা করেন। তিনি যেকোনো মূল্যে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিকে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা ও ফাঁড়ি পুলিশকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশের তদন্ত দল স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করার সময় নিশ্চিত হয়, গ্রেফতার হওয়া ইয়াসিন মিয়াঁজী এলাকায় একজন চিহ্নিত চোর। এর আগে বিভিন্ন চুরির ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল। সন্দেহভাজন হিসেবে তার অতীত অপরাধের রেকর্ড ধরে অনুসন্ধান শুরু করলে এই হত্যাকাণ্ডের মূল সূত্র বেরিয়ে আসে।
পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার মাত্র ১৫ ঘণ্টার মধ্যে সাচার পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল তার অবস্থান চিহ্নিত করে এবং তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতার হওয়ার পর সোমবার গভীর রাতেই কড়া পুলিশি পাহারায় ঘাতক ইয়াসিন মিয়াঁজীকে নিয়ে পুলিশ বারকোটা গ্রামের সেই ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে তিনি কীভাবে ঘরের সিঁদ কেটে প্রবেশ করেছিলেন, কোথায় বাধা পেয়ে বৃদ্ধাকে আঘাত করেছিলেন এবং কীভাবে শরীর থেকে অলঙ্কার ছিনিয়ে নিয়েছিলেন, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুলিশের সামনে বর্ণনা করেন।
এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সোমবার রাতেই নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে ঘাতক ইয়াসিন মিয়াঁজীকে একমাত্র আসামি করে কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, স্বামী সরকারি কর্মকর্তা সাদেক হোসেনের মৃত্যুর পর ফাতেমা বেগম একাই ওই টিনশেড ঘরে বসবাস করতেন। তার ছেলে এবং মেয়েরা আলাদাভাবে নিজেদের সংসারে অন্যত্র ব্যস্ত থাকতেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন