প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাবনায় এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করার সময় ওই গৃহবধূর পা মাটিতে লেগে ছিল, যা তার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি করেছে। এলাকায় এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা, তা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
পাবনা পৌর সদরের গোপালপুর আইবি রোডের একটি বাসা থেকে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে ২২ বছর বয়সী আজমিরা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করেন। মৃত আজমিরা ওই মহল্লার স্কুলশিক্ষক আরিফ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সদর উপজেলার চর বাঙ্গাবাড়িয়া গ্রামের আক্কাস প্রামাণিকের মেয়ে।
পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের কারণে স্বামীর ওপর অভিমান করে বুধবার (১৭ জুন) রাত ১০টার সময় স্বামীকে ঘরের বাইরে রেখেই আজমিরা দরজা বন্ধ করে দেন। স্বামীর ডাকাডাকির বেশ কিছু ঘণ্টা পরেও দরজা না খোলায় তিনি সারা রাত অন্য একটি কক্ষে ঘুমান।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ৮টার দিকে পরিবারের লোকজন পুনরায় ডাকাডাকি করে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সকাল ১০টার দিকে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহটি নিচে নামানো হয়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করার পর মরদেহটি পাবনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, যখন লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে, তখন গৃহবধূর পা মাটির সঙ্গে লেগে ছিল। এভাবে সাধারণত কেউ আত্মহত্যা করেন না এবং ফাঁস নিয়ে মারা যাওয়ার কথাও নয়। এছাড়াও ওই বাসার জানালায় কবজা সিস্টেম থাকার কারণে সেখানে অনায়াসে লোকজন প্রবেশ করতে পারে। তাই মৃতকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পরে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। তাদের ধারণা, যদি বিষয়টির সঠিক তদন্ত করা হয়, তবে মৃত্যুর আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে আজমিরার স্বামী আরিফ হোসেন বলেছেন, ‘অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে আমি কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।’
আজমিরার বাবা আক্কাস প্রামাণিক জানিয়েছেন, ‘গতরাতে মেয়ে ও জামাইয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। জামাই ফোন করে জানিয়েছিল। সকালে আবার বলে, আপনার মেয়ে ঘরের দরজা খুলছে না, আপনি আসেন। জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় যে আরেক রুমে ছিল। পরে আমি দরজার ফাঁক দিয়ে দেখি আমার মেয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। কীভাবে মারা গেল, তা বুঝতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে শিশুপুত্রের কথা ভেবে আপস করার চিন্তা করছিলাম। তবে যেহেতু পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে ময়নাতদন্ত করতেই হবে, তাই আমরাও মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় সাহা বলেছেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। এ ঘটনায় মৃত গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন