প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীনের নৌবাহিনী এখন আর সীমাবদ্ধ নেই শুধুমাত্র নিজেদের উপকূলীয় জলসীমায়। দক্ষিণ চীন সাগর থেকে জাপান ও তাইওয়ানের আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ নৌ ও বাণিজ্যিক পথে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি চীনা যুদ্ধজাহাজ চলাচল করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে জাহাজের সংখ্যায় চীন ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে, দেশটির নৌবহর যে গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে, সেই গতির সঙ্গে তাল মেলানো ওয়াশিংটনের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পর্যালোচিত যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনের নৌবাহিনীতে বর্তমানে ৪০০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন রয়েছে। এই সংখ্যার দিক থেকে এটি মার্কিন নৌবহরের চেয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি।
চীনের হাতে বর্তমানে তিনটি বিমানবাহী রণতরি রয়েছে এবং চতুর্থটি নির্মাণাধীন। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন এই রণতরিটি পারমাণবিক শক্তিচালিত হতে পারে। আধুনিক ইতিহাসে শান্তিকালীন সময়ে নৌবাহিনীর অন্যতম বৃহৎ সম্প্রসারণ হিসেবে চীনের এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।
এশিয়ার বিভিন্ন জলসীমায় চীনা যুদ্ধজাহাজ ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটির যুদ্ধজাহাজ দক্ষিণ চীন সাগর, তাইওয়ানের আশপাশ, ফিলিপাইনের পূর্বাঞ্চল এবং জাপানের দক্ষিণ উপকূলে চলাচল করছে। এর বাইরেও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়াচ্ছে তারা। এ ছাড়া এডেন উপসাগরেও নিয়মিত নৌবহর মোতায়েন করছে বেইজিং।
চীনা নৌবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হিসাবে, যেকোনো সময়ে তাইওয়ানের আশপাশের জলসীমায় চীনের প্রায় ছয়টি যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করে। সামরিক মহড়ার সময় এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি এর প্রায় তিন গুণ। এ অঞ্চলের বিভিন্ন দ্বীপ ও জলসীমার মালিকানা নিয়ে ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধে জড়িত চীন।
তবে বেইজিংয়ের লক্ষ্য কেবল যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা বাড়ানো নয়। নিজেদের উপকূলীয় জলসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ডের দাবিকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যতে কোনো সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ ঠেকানোও চীনের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএমআর
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন