প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবের জমি ও ভবন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটেছে। প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আদালত আদেশ প্রদান করেছেন। বিরোধপূর্ণ জমিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কার কারণে দ্বিতীয় পক্ষকে সেখানে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে দ্বিতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালত উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করেছেন। বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার প্রতিবেদন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে গত ১৬ আগস্ট এ আদেশ প্রদান করা হয়েছে। প্রায় এক বছর আগে এই ঘটনায় মামলা করা হয়েছিল।
আদালতের নথি ও তথ্যে জানা যায়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভিটিঝগড়ারচর মৌজার বিএস গেজেটেড ১৬ নম্বর খতিয়ানের ২৫৮ নম্বর দাগের ৬ শতক জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।
প্রথম পক্ষের দাবি হলো, ওই জমিতে বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবের ভবন নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং দ্বিতীয় পক্ষ সেখানে দখলের চেষ্টা করছে।
১৯৯১ সালে বসুন্ধরা গ্রুপের অর্থায়নে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদের সঙ্গে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জন্য প্রেসক্লাব ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নামে ৬ শতক জমি ক্রয় করা হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা হলেও ৩৬ বছরের পরে ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনে পরাজিত একটি পক্ষ ‘প্রেসক্লাব বাঞ্ছারামপুর’ নামে পৃথক কমিটি গঠন করার ফলে দুই পক্ষের নাম ও পরিচয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পরে বিষয়টি আদালতে গড়ায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, প্রেসক্লাবের পক্ষে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজের বিভিন্ন পর্যায়ের ছবি, বিদ্যুৎ বিল, পৌরকর পরিশোধের কাগজপত্র, নির্মাণসামগ্রী কেনার ভাউচার এবং ভবন নির্মাণে আর্থিক সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা ২ লাখ ২০ হাজার টাকার চেকের ফটোকপিসহ নথি দাখিল করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, মোল্লা মো. নাসির আহমেদ বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যও।
আলোচনায় বলা হয়েছে, বিতর্কিত জমিতে প্রেসক্লাবের নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে।
দ্বিতীয় পক্ষের কর্মকাণ্ডের কারণে সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা থাকায় ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
পরে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত দ্বিতীয় পক্ষকে বিতর্কিত জমিতে এমন কোনো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবার নির্দেশ দিয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা শান্তি ভঙ্গের কারণ হতে পারে।
আদেশের অনুলিপি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন