প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রথম দিনের ব্যাটিংয়ে ধাক্কা খাওয়ার পর, বল হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ডারবানে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৮৪ রানে অলআউট করে প্যাট কামিন্সের দল প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড অর্জন করেছে। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫.৪ ওভার ব্যাট করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৩ রান সংগ্রহ করেছে অস্ট্রেলিয়া। উইকেটে নিক ম্যাডিনসন ১৭ এবং ট্রাভিস হেড ১০ রানে অপরাজিত রয়েছেন। সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার তুলনায় অস্ট্রেলিয়া ১৩৯ রানে এগিয়ে গেছে।
দিনের শুরুতে ২৭ রানে এক উইকেট নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। সূর্যের আলোতে ভালো ব্যাটিংয়ের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের সামনে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেনি স্বাগতিকরা। ডেভিড বেডিংহ্যাম ও এইডেন মার্করামের ৮৪ রানের জুটি দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভালো অবস্থানে নিয়ে গেলেও, এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। মার্করাম ৩৭ রান করে মিচেল স্টার্কের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দেন। এরপর, নাথান লায়নের বলে মাত্র ৩ রান করে অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ফিরে যান।
অস্ট্রেলিয়ার চার মূল বোলারই অন্তত দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। সবচেয়ে সফল ছিলেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, যিনি ১৫ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন। নিয়মিত ১৪০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে বল করে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন কামিন্স। ওয়ান মুল্ডার ও ট্রিস্টান স্টাবসের জুটি যখন দক্ষিণ আফ্রিকাকে সামলানোর চেষ্টা করছিল, তখনই কামিন্সের বাউন্সারে ভেঙে যায় সেই প্রতিরোধ। ১৪৩ কিলোমিটার গতির একটি বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ দেন মুল্ডার। এরপর শর্ট বলের কৌশলে স্টাবসকেও ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচে পরিণত করেন কামিন্স।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন বেডিংহ্যাম। টেস্টে প্রথমবার তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তিনি বেশ স্বচ্ছন্দ ছিলেন। তবে অর্ধশতক থেকে মাত্র এক রান দূরে থাকতে তার ইনিংস শেষ হয়। শেষ দিকে কেশব মহারাজ ও সিমন হারমার ৫২ রানের জুটি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আরও কিছুটা এগিয়ে নেন। পরে মহারাজ স্টার্কের বলে কভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। হারমার ও আনরিখ নরকিয়া শেষ উইকেটে আরও ৩৫ রান যোগ করলেও, দক্ষিণ আফ্রিকার ঘাটতি পূরণ করার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দাপটের সঙ্গে ফিল্ডিংয়েও আলো ছড়িয়েছেন স্টিভেন স্মিথ। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে চারটি ক্যাচ নিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে টেস্টে উইকেটকিপার নন—এমন ফিল্ডারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্যাচের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন স্মিথ, পেছনে ফেলেছেন ইংল্যান্ডের জো রুটকে। তার নেওয়া ক্যাচগুলোর কয়েকটি ছিল দুর্দান্ত। টেম্বা বাভুমার রিভার্স সুইপে নেওয়া ক্যাচের পর ডেভিড বেডিংহ্যামকে প্রথম স্লিপে ডাইভ দিয়ে অসাধারণভাবে ধরেন তিনি। পরে কাইল ভেরেইনের রিভার্স সুইপের চেষ্টায় এক হাতে অবিশ্বাস্য ক্যাচ নিয়ে দিনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত তৈরি করেন স্মিথ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া স্বস্তির শুরু পেয়েছে। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া নিক ম্যাডিনসন নিজের ওপর থেকে চাপটা সরিয়ে নিয়েছেন প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরে। মার্কো ইয়ানসেনের প্রথম বলেই পুল করে চার মারেন তিনি। একই ওভারে আরও একটি বাউন্ডারি হাঁকানোর পর ওয়ান মুল্ডারের বলে ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কাও মারেন ম্যাডিনসন। ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বরের পর টেস্টে এটিই তার প্রথম রান। ২০১৬ সালের শেষ দিকে তিনটি টেস্ট খেলার পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ফিরেছেন এই ব্যাটার।
দিন শেষে ১৭ রানে অপরাজিত ম্যাডিনসনের সঙ্গে ১০ রানে অপরাজিত হেড। তবে টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা বন্ধ হয়ে যায়। প্রথম দিন ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ তুলতে না পারলেও দুর্দান্ত বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন অস্ট্রেলিয়ার হাতে। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিডের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও লিড বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে তাদের। তবে ডারবানের আলোস্বল্পতা চতুর্থ ও পঞ্চম দিনেও খেলার সময় কমিয়ে দিলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য সেটিই বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন