প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
“সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি” এই স্লোগানকে সামনে রেখে নারী শান্তি সহায়কদের প্ল্যাটফর্ম (ওয়েভ), জামালগঞ্জের উদ্যোগে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামে এ উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উপরোক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়েভ সদস্য ও জামালগঞ্জ পিএফজির পিস অ্যাম্বাসেডর আলেয়া বেগম। অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ওয়েভের যুগ্ম সমন্বয়কারী সানিয়া আখি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাবুল মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিএফজি সদস্য ও জাতীয় পার্টির উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমীন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কুদরত পাশা।
বক্তারা আলোচনার সময় বলেন, দেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ, গার্হস্থ্য সহিংসতা এবং শিশু নির্যাতনের খবর সমাজকে উদ্বিগ্ন করছে। বক্তারা বলেন, নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও সামাজিক অবক্ষয়, অনলাইন হয়রানি, মাদকাসক্তি, পারিবারিক সহিংসতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি নারী ও শিশুদের ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
এছাড়া বক্তারা আরও বলেন, যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হয়, তাহলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হয়। দীর্ঘসূত্রতা, প্রভাবশালীদের চাপ এবং সামাজিক লজ্জার কারণে অর্ধেকেরও বেশি ভুক্তভোগী বিচার থেকে বঞ্চিত হন। এর ফলে অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটে। নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা কেবল নারীর বিষয় নয়, এটি মানবাধিকার এবং একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাবুল মিয়া বলেন, নারীরা এখনও বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা শিকার হলেও আশার বিষয় হলো সরকার নারীর ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তিনি জানান, অচিরেই ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের জন্য নতুন জরিপ শুরু হবে। এ কার্যক্রমে পরিবারের নারী সদস্যের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে এবং সরকারি সহায়তার অর্থ সরাসরি নারীর কাছে পৌঁছাবে। এতে পরিবারে নারীর মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি সকলকে জরিপকারীদের কাছে সঠিক তথ্য প্রদান করার জন্য আহ্বান জানান, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা সরকারি সুবিধা পেতে পারেন।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন সুমাইয়া আক্তার, সালমা খাতুন, রুমেনা আক্তার, জোসনা বেগম, রওশন আরা, কুলসুমা, রাশিয়া, আখি আলম, হেপি আক্তারসহ স্থানীয় নারী নেত্রী ও ওয়েভ সদস্যরা। বৈঠকে বক্তারা নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা, পারিবারিক মূল্যবোধ জোরদার করা এবং নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন