প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আর্জেন্টিনা আবার পিছিয়ে পড়েও প্রত্যাবর্তনের অসাধারণ গল্প রচনা করলো। বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সাত মিনিটে যেন নতুন করে লেখা হলো মেসিদের রুপকথা। আটলান্টার স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা লিওনেল স্কালোনির দল অবিশ্বাস্যভাবে প্রত্যাবর্তন করে ২-১ ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে।
এতে আলবিসেলেস্তেরা টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রবেশ করেছে। এবারের শিরোপা লড়াইয়ে তাদের শেষ প্রতিপক্ষ হবে স্পেন। তবে এই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে গোলশূন্য প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণের চাইতে বেশি লড়াই করেছে মাঝমাঠের দখল নেওয়ার জন্য। শুরু থেকেই মাঠে ছিল ফাউল, সংঘর্ষ এবং স্নায়ুযুদ্ধ। ইংল্যান্ড বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকার পরও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। প্রথমার্ধের সেরা সুযোগটি এনজো ফার্নান্দেজ পেয়ে ছিলেন, তবে তার দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে মরগান রজার্সের নিখুঁত ক্রস থেকে অ্যান্থনি গর্ডনের ট্যাপ-ইনে ইংল্যান্ড এগিয়ে যায়। এরপর একাধিক সুযোগ তৈরি সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা সমতা ফেরাতে পারেনি। অবশেষে ৮৫ মিনিটে শর্ট কর্নার থেকে মেসির পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করেন এনজো ফার্নান্দেজ।
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ডান প্রান্তে জেড স্পেন্সকে কাটিয়ে নিখুঁত ক্রস বল তোলেন মেসি। দূরের পোস্টে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা লাওতারো মার্তিনেজ হেড দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন এবং ইংল্যান্ডের হৃদয় ভেঙে দেন। এই জোড়া অ্যাসিস্টের মাধ্যমে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বিশ্বকাপ ফুটবলের আধুনিক ইতিহাসের পাতায় নিজের রেকর্ডকে আরও সমৃদ্ধ ও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন।
এটি ছিল বিশ্বকাপে মেসির ১২তম অ্যাসিস্ট (গোল করানো)। তিনি ছয়টি বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিয়ে এই চোখধাঁধানো কীর্তি গড়েছেন। এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচেও তিনি একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিওনেল মেসি একমাত্র ফুটবলার, যিনি পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন আসরে অ্যাসিস্ট করার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন।
২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপ দিয়ে এই যাত্রার শুরু হয়েছিল। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং চলমান বিশ্বকাপে প্রতি আসরেই সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। ৮ অ্যাসিস্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন