প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
১৬ জুন, ২০২৬, নওগাঁর পোরশায় বর্তমানে আমের বাজার জমে উঠেছে। উপজেলার নোচনাহার বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে এখন দিন-রাত আম কেনাবেচা চলছে ব্যাপক হারে। তবে নোচনাহার বাজার এখন এলাকায় একজন বৃহত্তর আম বাজারে পরিণত হয়েছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয় আমচাষি, বাগান মালিক এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারি ও খুচরা আম ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো বাজার। এই বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা আমের আড়ৎ গুলিতে ১ হাজার ৪৩ কৌটি ৭০ লক্ষ টাকার আম বিক্রি সম্ভাবনা রয়েছে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা এভাবে জানাচ্ছেন। এর পাশাপাশি উপজেলার সরাইগাছি মোড়, কালাইবাড়ি বাজার, পোরশা আড়তের মোড়, গাঙ্গুরিয়া বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে আম কেনাবেচা চলছে। চলতি মৌসুমে এই আম বাজারগুলোতে বাহারি জাতের আম কেনাবেচা হচ্ছে। আম বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো, বারি-৪, ল্যাংড়া ও খিরশাপাত জাতের আমের। এর পাশাপাশি কিছু সু-স্বাদু জাতের আমও পাওয়া যাচ্ছে। আমচাষিরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আমের ফলন কিছুটা ভালো হয়েছে, তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা কম। এবারের আমের আকৃতি বেশ আকর্ষণীয় হলেও রং কিছুটা খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিষয়টি আবহাওয়া জনিত কারণে হতে পারে; তবে বিক্রেতা ও ক্রেতারা জানিয়েছেন আমে তেমন কোনো সমস্যা নেই।
সরেজমিনে নোচনাহার আম বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিন শতশত অটোভ্যান ও ট্রলিতে করে চাষিরা তাদের বাগানের আম বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আড়তদার ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা সরাসরি এখান থেকে আম সংগ্রহ করছেন। তবে দাম নিয়ে চাষিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিদ্যমান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আমচাষি জানিয়েছেন, মৌসুমের শুরুতে আমের দাম কিছুটা কম থাকলেও বর্তমানে আমের মান অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ওজনে দিতে হচ্ছে প্রায় ৪৮ কেজি, তাদের মতে সেখানে প্রায় ৮ কেজি বেশী দেয়া হচ্ছে। এর ফলে তাদের খুব একটা লাভ হচ্ছে না। এবার আম্রপালি আমের দাম প্রকারভেদে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা মন বিক্রি হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন। তবে কিছুদিন পরে এই আমের দাম বাড়তে পারে বলে তাদের ধারণা। অন্যদিকে পাইকারি ক্রেতারা বলছেন, নোচনাহার বাজারের আমের মান ভালো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সুবিধাজনক হওয়ায় তারা প্রতি বছরই এখান থেকে আম কেনা করতে আসেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো বলেও তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুনূর রশিদ জানিয়েছেন, নোচনাহার আমবাজার এবং উপজেলার অন্যান্য আম বাজারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শতশত মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। গাছ থেকে আম নামানো, প্যাকেজিং, ক্যারেট তৈরি এবং পরিবহনের কাজে স্থানীয় শ্রমিকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা এবং যানজট এড়াতে ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এ উপজেলায় ১০ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে এবং এবছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ১০০ মেট্রিকটন। এর মধ্যে প্রায় ১ মেট্রিকটন আম বিদেশে রপ্তানী করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। যদি আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকে এবং বাজার দর স্থিতিশীল থাকে, তবে চলতি মৌসুমে নোচনাহার বাজার ও বিভিন্ন আড়ৎ থেকে ১ হাজার ৪৩ কৌটি ৭০ লক্ষ টাকার আম বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন