প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে নিরাপত্তা, শতভাগ সিসিটিভি নজরদারি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত প্রথম দিনের এই পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র (আবশ্যিক), মাদ্রাসা বোর্ডে কুরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো সন্তোষ প্রকাশ করেছে কারণ কোনো ধরনের প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব এবং অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষ হয়েছে।
এ বছর, ৯টি সাধারণ বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন, যা একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক।
তথ্য অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় বেশি। মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন ছাত্রী উপস্থিত হয়েছেন।
এবারই প্রথমবারের মতো দেশে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে সম্পূর্ণ অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে, যা পূর্বে বোর্ডভিত্তিক আলাদা প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হত।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর এসএম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেছেন, ৯টি বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পরীক্ষাসংক্রান্ত একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৯টি সাধারণ বোর্ডে ১ হাজার ৬২০টি কেন্দ্রে ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
১৭ হাজার ২৩৩ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন, যা মোট পরীক্ষার্থীর মাত্র ২ শতাংশ। এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ৪৬০টি কেন্দ্রে ৮০ হাজার ৬৫৩ জন এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৬১১টি কেন্দ্রে ৮০ হাজার ৬০৩ জন পরীক্ষার্থীও প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, প্রথম দিনে সার্বিক পরীক্ষার পরিবেশ ছিল সন্তোষজনক। তবে অসদুপায় অবলম্বনের জন্য ৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, কিন্তু দায়িত্ব অবহেলার কারণে এদিন কোনো পরিদর্শক বহিষ্কার হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরীক্ষা নকলমুক্ত ও স্বচ্ছ রাখতে এবার একটি কেন্দ্রীয় ‘সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল’ খোলা হয়েছে। এই সেলের মাধ্যমে ঢাকার কন্ট্রোল রুম থেকে দেশের যেকোনো প্রান্তের কেন্দ্রের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রে পুলিশ কর্মকর্তাদের ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রে যানজট এড়াতে পরীক্ষার্থীদের সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশ্নপত্র সুরক্ষায় সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়া কিংবা ফাঁসের প্রচেষ্টা রুখতে সাইবার টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনব্যাপী এই পরীক্ষার লিখিত অংশ আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে, পরে ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। পরীক্ষা না থাকার দিনগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন