প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মধ্য আমুরবুনিয়া গ্রামে পাইপ লাইন ভিত্তিক সৌরশক্তিচালিত নিরাপদ পানি সরবরাহ নেটওয়ার্কের শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। ২৮ অক্টোবর বুধবার বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল্লাহ।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততা ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় জনগণের জন্য সুপেয় পানির অভাব এবং বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সংকট মোকাবেলার জন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘চ্যারিটি ওয়াটার’-এর অর্থায়নে, ‘হেলভেটাস বাংলাদেশ’-এর সহযোগিতায় এবং ‘ডরপ’ এর বাস্তবায়নাধীন ‘ওডিঅবও’ প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হাবিবুল্লাহ বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট দিন দিন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা এই সংকটের সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ডরপের এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ উপকূলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।" তিনি স্থানীয় এলাকাবাসীকে প্রকল্পের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমুরবুনিয়া গ্রামের উপকারভোগী ও ‘মা সংসদ’-এর নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, হেলভেটাস বাংলাদেশ এর প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন, ডরপ এর প্রকল্প ম্যানেজার নুরেফা আরজু, উপজেলা কো-অর্ডিনেটর সওকাত চৌধুরী, মনিটরিং কো-অর্ডিনেটর মো. হুমায়ুন কবির, প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার শামীম আহমেদ, পানি ব্যবহারকারী কমিটির সদস্য এবং ডরপের অন্যান্য কর্মীবৃন্দ।
উদ্যোক্তারা জানান, সৌরশক্তিচালিত পাম্পিং প্রযুক্তির মাধ্যমে পুকুরের পানি পরিশোধন করে সরবরাহের এই ব্যবস্থায় গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ১৬টি ট্যাপস্ট্যান্ড স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এই গ্রামের ২৫০টি পরিবারের প্রায় ১২শ মানুষ রান্নাবান্না, খাওয়া ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার জন্য সহজে নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে পারবে। স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পানিজনিত রোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে এই মহৎ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উপস্থিত অতিথিবৃন্দরা আশা প্রকাশ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন