প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উড়ন্ত গাড়ির ধারণাকে নতুনভাবে আলোচনায় এনেছে টেসলার পরবর্তী প্রজন্মের রোডস্টার স্পোর্টস কার। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অনুষ্ঠিত এক প্রদর্শনীতে গাড়িটিকে বিশেষভাবে তৈরি র্যাম্পের মাধ্যমে অল্প সময়ের জন্য বাতাসে ভেসে আবার মাটিতে অবতরণ করতে দেখা গেছে। এই কৌশলটি স্পেসএক্সের তৈরি কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার ব্যবহার করে দেখানো হয়। তবে প্রদর্শনীটি গাড়িটির দীর্ঘ সময় আকাশে থাকার বা উড়ন্ত অবস্থায় দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করার সক্ষমতা প্রমাণ করেনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের পরীক্ষাকেন্দ্রে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীতে রোডস্টারকে একটি বিশেষ বাঁকানো র্যাম্প বেয়ে ওপরে উঠতে এবং প্রায় উল্টো অবস্থায় চলতে দেখা যায়। এরপর গাড়িটি থ্রাস্টারের সাহায্যে র্যাম্প থেকে নেমে বাতাসে কৌশল দেখিয়ে মাটিতে অবতরণ করে। প্রদর্শনীতে অন্যান্য কয়েকটি টেসলা গাড়ির ওপর দিয়েও লাফিয়ে যেতে দেখা যায় রোডস্টারটিকে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গাড়িটি চালক ছাড়াই এই প্রদর্শনীতে অংশ নেয়।
গাড়িটি ঠিক কত উঁচুতে উঠেছিল, অনুভূমিকভাবে কত দূরত্ব অতিক্রম করেছে কিংবা কতক্ষণ বাতাসে ছিল, সে বিষয়ে টেসলা সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। তবে প্রদর্শনীসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে প্রায় ২১ মিটার উচ্চতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিমাপ র্যাম্পে থাকা অবস্থায় গাড়িটির অবস্থান নির্দেশ করে; এটিকে মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় গাড়িটির নিশ্চিত উড্ডয়ন-উচ্চতা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
প্রদর্শনীতে দেখা কৌশল থেকে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, রোডস্টারটি বড় বাধা অতিক্রম করতে পারবে কি না, দীর্ঘ সময় বাতাসে থাকতে পারবে কি না কিংবা মাটিতে না নেমে উল্লেখযোগ্য দূরত্ব পাড়ি দিতে সক্ষম কি না। তাই এটিকে আপাতত নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দেখানো একটি সংক্ষিপ্ত উড্ডয়ন-কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
রোডস্টারের প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় স্পেসএক্সের তৈরি কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার ব্যবহার করা হয়েছে। প্রচলিত রকেট ইঞ্জিনের মতো এতে জ্বালানি পুড়িয়ে শক্তি উৎপন্ন করা হয় না। বরং উচ্চচাপে সংরক্ষিত গ্যাস নির্গত করে ধাক্কা বা বল সৃষ্টি করা হয়। গাড়িটিকে বাতাসে তোলা এবং এর চলাচলের দিক নিয়ন্ত্রণে এই প্রযুক্তি ভূমিকা রাখে। প্রদর্শনীতে গাড়িটির র্যাম্প বেয়ে ওঠার জন্য বিশেষ ফ্যানভিত্তিক সাকশন ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হয়।
গাড়িটির উড্ডয়নব্যবস্থা ব্যবহারের জন্য বিশেষ লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ কিংবা বিমা লাগবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত নিয়ম ঘোষণা করা হয়নি। বিষয়টি গাড়িটির চূড়ান্ত নকশা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এর উড্ডয়ন সক্ষমতাকে কীভাবে শ্রেণিবদ্ধ করবে, তার ওপর নির্ভর করবে। সাধারণ সড়কে চলাচলের অনুমোদন পেলেও উড্ডয়নব্যবস্থা ব্যবহার করতে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের বিমান চলাচলবিষয়ক বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হতে পারে।
বিমার ক্ষেত্রেও জটিলতা দেখা দিতে পারে। সাধারণ মোটরযান বিমা আকাশে লাফ দেওয়ার সময় দুর্ঘটনা বা ক্ষয়ক্ষতি হলে তা কভার করবে কি না, সেটি নিশ্চিত নয়। এ ধরনের ঝুঁকির জন্য বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আলাদা শর্ত ও সুরক্ষা নির্ধারণ করতে হতে পারে।
নতুন রোডস্টারের চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য এখনো নিশ্চিত করেনি টেসলা। ২০১৭ সালে দ্বিতীয় প্রজন্মের গাড়িটি প্রথম ঘোষণার সময় এর প্রারম্ভিক দাম ২ লাখ ডলার বলা হয়েছিল। তবে সেই মূল্যকে নতুন নকশার মডেলটির নিশ্চিত বিক্রয়মূল্য হিসেবে ধরা যাবে না। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে বিভিন্ন সংস্করণের বুকিংয়ের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ জমা দেওয়ার তথ্য এসেছে। কিন্তু চূড়ান্ত মূল্য, সংস্করণভেদে সুবিধা এবং সরবরাহের বিস্তারিত এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
টেসলা জানিয়েছে, গাড়িটির উৎপাদন ২০২৮ সালে শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে উৎপাদনের সম্ভাব্য সময়সীমা ঘোষণার অর্থ এই নয় যে ওই সময়েই গাড়িটির সরবরাহ নিশ্চিতভাবে শুরু হবে। নতুন মডেলটি বাজারে আসার আগে এর নকশা, কার্যক্ষমতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
প্রদর্শনীটি উড়ন্ত গাড়ির ধারণাকে আলোচনায় আনলেও দৈনন্দিন যাতায়াতের বিকল্প হিসেবে এমন গাড়ি ব্যবহারের আগে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। নিয়মিত উড্ডয়ন ও অবতরণের নিরাপত্তা, কার্যক্ষমতা, পরিচালন ব্যয় এবং সড়ক ও বিমান চলাচলবিষয়ক অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে। ফলে রোডস্টারের এই প্রদর্শনীকে আপাতত ভবিষ্যৎ পরিবহন প্রযুক্তির একটি পরীক্ষামূলক প্রদর্শন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন