প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে, দেশটির জাতীয় পার্লামেন্ট ভবন (বুন্দেসট্যাগ) এর সামনে যুদ্ধবিরোধী অধিকারকর্মীরা জার্মানির জাতীয় পতাকা নামিয়ে সেখানে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে দিয়েছেন। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন ও যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে বার্লিন সরকারের বিতর্কিত অবস্থান এবং নীরবতার প্রতিবাদে এই অভিনব ও জোরালো কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে এই ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্লিনে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে জার্মানির পতাকা নামিয়ে ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন করেন মানবাধিকার ও যুদ্ধবিরোধী কর্মীদের একটি দল। ‘পিসফুলি এগেইনস্ট জেনোসাইড’ (শান্তিপূর্ণভাবে গণহত্যার বিরুদ্ধে) নামক একটি নাগরিক অধিকার সংগঠন এই প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গাজায় নির্বিচার হত্যাকাণ্ড এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় জার্মান সরকারের ক্রমাগত নীরবতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা না জানানোর প্রতিবাদে তারা এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
বিবৃতিতে অধিকারকর্মীরা উল্লেখ করেন, ‘বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে গণহত্যা সংঘটিত হোক না কেন, তা আমাদের সবাইকে স্পর্শ করে। মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধ করার যে ঐতিহাসিক ও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে, তা থেকে আমরা কখনোই মুখ ফিরিয়ে নিতে পারি না।’
জার্মানির হলোকাস্ট-পরবর্তী বিখ্যাত নীতিবাক্য ‘নেভার এগেইন’ (আর কখনও নয়)-এর উল্লেখ করে সংগঠনটি দেশটির পররাষ্ট্রনীতির দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারা মন্তব্য করে, ‘সরকারগুলো যদি নিজেদেরই আন্তর্জাতিক আইন না মানে, তবে সেই আইনের মূল্য কী থাকে? মানবাধিকার যদি পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য না হয়, তবে সেই অধিকারের অর্থই বা কী? যখন একটি জনগোষ্ঠীকে নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হয়, তখন নাগরিক সমাজ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে এবং প্রতিটি মানুষের জীবন ও মুক্তির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।’
এছাড়া, গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর দীর্ঘ আগ্রাসনের কারণে জার্মানির একপেশে ইসরাইলপন্থি অবস্থান এবং দেশটির অভ্যন্তরে ফিলিস্তিনপন্থি জমায়েত ও স্লোগানের ওপর দফায় দফায় বিধিনিষেধ আরোপ নিয়ে ইউরোপজুড়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। জার্মানির ভেতরেও সচেতন নাগরিক, অধিকারকর্মী ও ছাত্রসমাজ যুদ্ধবিরতির দাবিতে লাগাতার বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে। দেশটির কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টের সামনে জার্মানির পতাকা নামিয়ে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়ানোর এই ঘটনা দেশটির নীতিনির্ধারকদের ওপর যুদ্ধবিরোধী জনমতের চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন