প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু অভিযোগ করেছেন যে, সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের এলাকার উন্নয়নে যতটা কাজ করার সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল, ততটা তিনি পাননি।
রোববার (৪ অক্টোবর) তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
মাহমুদা মিতু উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে রুমিন ফারহানা একটি ছোট দৈর্ঘ্যের রাস্তার ছবি দিয়েছিলেন। তিনি তখন চিন্তিত হয়েছিলেন যে, সংরক্ষিত সংসদ সদস্যদের মর্যাদা সমান হলেও তাদের কাজের পরিধি কতটা সীমিত। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, "পাঁচ বছরে যদি একটি ইটের রাস্তা করার মতো কাজই থাকে, তাহলে মানুষের জন্য বড় পরিসরে কাজ করবেন কীভাবে?"
সংসদ সদস্যদের মূল দায়িত্ব আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়নের জন্য যে বরাদ্দ আসে, তার মাধ্যমে মানুষের জন্য সরাসরি কাজ করার সুযোগ থাকে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই তিনি সরাসরি নির্বাচনের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
মাহমুদা মিতু বলেন, "মাঠে-ঘাটে মানুষের মধ্যে গিয়ে তাদের কথা শোনা এবং পাশে থাকা আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজ।" তবে তিনি শেষ পর্যন্ত যা ঘটেছে, তা আল্লাহর পরিকল্পনা হিসেবেই দেখছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য হিসেবে তার এলাকার জন্য যে পরিমাণ কাজ করার সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল, তা তিনি পাননি। সরকার তাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চিত করেছে, যার ফলে তার এলাকার মানুষও তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এলাকায় খুব সামান্য কাবিখা ও কাবিটা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দ দুই উপজেলায় ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের পরিমাণ কম হলেও এর এক পয়সাও এদিক-সেদিক হবে না।
এলাকার সবচেয়ে খারাপ রাস্তাগুলো তিনি নিজে গিয়ে দেখেছেন জানিয়ে মাহমুদা মিতু বলেন, সামনে আরও বরাদ্দ এলে ধাপে ধাপে এসব রাস্তার উন্নয়নে কাজ করা হবে।
দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে বরাদ্দের প্রকৃত হকদারকে তার প্রাপ্য দেওয়ার কথাও তিনি বলেন। তার ভাষায়, "আমার এলাকার কোনো বিএনপি কর্মী বা সমর্থক যদি কোনো বরাদ্দের প্রকৃত হকদার হন, তাকেও বঞ্চিত করা হবে না।"
মাহমুদা মিতু বলেন, "রাজনীতির একটি বড় দিক হলো মানুষের হক নিশ্চিত করা।" তিনি জানান, কোনো কিছু বণ্টনের সময় নিজের পছন্দের মানুষকে বেশি দেওয়া, কারও প্রাপ্য আটকে রাখা কিংবা দুর্বল মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার মতো কাজ তিনি করতে চান না এবং এসবকে প্রশ্রয়ও দিতে চান না। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, ভুলত্রুটি হতে পারে এবং নিজেকে সংশোধনের জন্য সব সময় প্রস্তুত আছেন।
তিনি চিকিৎসা পেশা ছেড়ে জুলাইয়ের আন্দোলনে রক্তপাতের পর রাজনীতিতে এসেছেন উল্লেখ করে বলেন, মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন নিয়েই তার রাজনীতিতে আসা। তিনি নিজে অন্যায় করবেন না এবং কেউ অন্যায় করলে সহজে ছেড়ে দেবেন না।
নিজের এলাকার উন্নয়ন পরিস্থিতি তুলে ধরে মাহমুদা মিতু বলেন, তার এলাকা দেশের সবচেয়ে অনুন্নত ১০টি এলাকার মধ্যে একটি। সেখানকার রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। তিনি বলেন, "মানুষের দুর্ভোগ না দেখলে তা বিশ্বাস করা কঠিন।"
তিনি আরও বলেন, এলাকার সব সংসদ সদস্য যদি দলমতের বাইরে গিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে আরও বেশি উন্নয়ন করা সম্ভব হতো। তবে এর জন্য রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার মানসিকতা প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন