প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বৃহস্পতিবার ঢাকার মিরপুরে হামলার শিকার হওয়া বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচ কার্যালয় ও এর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিদর্শনে যান এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি সেখানে হামলার ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
রাড্ডা ছিল বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য প্রসিদ্ধ। প্রায় ৫০ বছর ধরে সেখানে প্রসূতি ও শিশু সেবাসহ বিভিন্ন সেবাদানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার সেখানে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রাড্ডা এমসিএইচ’র চারটি ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়। হামলাকারীরা সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’ নামের সাইনবোর্ডও স্থাপন করে। আজ রোববার আসিফ মাহমুদ সেখানে পরিদর্শনে যান।
এনসিপির কর্মীরা সেখানে থাকা ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’ সাইনবোর্ডটি তুলে ফেলেন। তারা আরও একাধিক নিদর্শন মুছে ফেলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এখানে আমরা ভেতরে দেখলাম যে, মেডিসিন, ইনজেকশন, ইকুইপমেন্ট—এই জিনিসগুলো পর্যন্ত লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই যে গরিব মানুষের গরিব বাচ্চাদের এই যে টিকা, এইটা লুট করে আপনারা কী প্রমাণ করতে চান?
‘আপনারা ধনীদের থেকে চাঁদাবাজি করেন, ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদাবাজি করেন। ইসিবিতে আমরা দেখলাম সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে আপনারা গতকালকে ভয়ানক ধ্বংসযজ্ঞ চালাইছেন। আপনারা এখানে গরিব বাচ্চাদের টিকাটা পর্যন্ত ছাড়েন নাই।’
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের লজ্জা হয়। আমরা দেখেছি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পরে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আজ থেকে মবতন্ত্রের কবর রচনা করা হলো’। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? মবতন্ত্র দিয়ে ঠিক তিনটা জায়গায় দুইদিনের মধ্যে একটা স্বাস্থ্য সেবা ক্লিনিক, একটা স্টুডিও আরেকটা প্রতিষ্ঠানের কবর রচনা করলেন। এই ঘটনার সাথে জড়িত কারা? আমরা দেখলাম সিসিটিভি ক্যামেরায়—পুলিশ এসে দাঁড়িয়ে ছিল।’
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে এক্সকেভেটর, ট্রাক আনা হয়েছে। একটা এক্সকেভেটর যখন আসে, পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রম কী হওয়া উচিত? যে এই এক্সকেভেটরের এখানে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করার অনুমতি আছে কি না।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ঢাকা শহরে আমি যদি আমার বাড়িও ভাঙতে চাই এক্সকেভেটর দিয়ে; আমার পুলিশের অনুমতি নিতে হয়, সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিতে হয়। তো পুলিশ এসে এখানে মবতন্ত্র যাতে কায়েম করতে পারে, এটা নিশ্চিত করেছে। যখন ভাঙচুর শুরু হয়েছে, তখন পুলিশ এখান থেকে হেঁটে চলে গেছে।’
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে তিনি পুরোনো দিনের বাংলা সিনেমার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন এসে দেখলাম—প্রবেশপথে পুলিশ, ভেতরে পুলিশ। ওই যে বাংলা ছায়াছবিতে একটা জিনিস আছে না যে, ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ আসছে। তো এখানেও ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ এসেছে পরিদর্শন করতে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন