প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলোর আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) আপিল বিভাগের এজলাসে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
এই উদ্যোগের ফলে আপিল নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা বিলম্বের অবসান ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় নিয়ে তার মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড—শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের যে মামলা, তার রায় আজ প্রকাশিত হয়েছে এবং নিম্ন আদালত কর্তৃক দুজন আসামির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে, হাইকোর্টের অনুমোদন ছাড়া এ রায় যে চূড়ান্ত নয় তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এমন অনেক চাঞ্চল্যকর মামলার রায় হয়; কিন্তু মানুষ এই রায় কার্যকর হতে দেখতে পারে না বিলম্বের কারণে।
তিনি বলেন, আমরা যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা সবসময় বলে থাকি, যতক্ষণ না সেই শাস্তি কার্যকর হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত রায়ের ব্যাপারে মানুষের শঙ্কা থেকে যাচ্ছে। এমন অবস্থাতে আমি উন্মুক্ত আদালতে মাননীয় প্রধান বিচারপতির দৃষ্টিতে এটি এনেছি।
এই বিষয়ে প্রধান বিচারপতি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধান বিচারপতি নারী এবং শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে এই জাতীয় মামলা, যেমন: শিশু রামিসা, আছিয়া এবং রসু খাঁ— এই সকল মামলাগুলো শুনানির জন্য হাইকোর্টে একটি সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন করবেন, যেটি আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে।
কাজল বলেন, এই বিশেষ বেঞ্চটি কেবল এ ধরনের মামলার জন্য নির্ধারিত থাকবে। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকে আমাদের নিয়োজিত আইন কর্মকর্তারা কোনো মামলায় কোনো রকম মুলতবি চাইবেন না। কোনো মুলতবি ছাড়াই এ মামলাগুলো শুনানির জন্য আমি আমাদের আইন কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছি।
ছুটির মধ্যেও বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কারণে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রের এই আইন কর্মকর্তা।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বর্তমানে আমাদের বিচারিক আদালতগুলোতে ছুটি চলছে। তবুও ছুটির মধ্যেও নারী এবং শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং আদালতের কার্যক্রম মাননীয় প্রধান বিচারপতি অব্যাহত রেখেছেন।
প্রধান বিচারপতির এই উদ্যোগকে ‘মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচারকে ত্বরান্বিত করার জন্য, মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য এবং বিশেষ করে আদালতের প্রতি মানুষের যে আস্থা — সে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যে আজকের এই উদ্যোগটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান রুহুল কুদ্দুস কাজল।
তিনি উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, তিনি রামিসার পরিবারের কাছে গিয়ে দ্রুততম সময়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে করণীয় করবেন— তা বলেছিলেন।
কেবল আলোচিত মামলা নয়, প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে সমানভাবে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কাজল বলেন, কোনো একটি মামলা আলোচিত হলেই আমরা সেটার পেছনে ছুটি; এটাও সত্য। কিন্তু প্রত্যেকটি অপরাধ দ্রুততম সময়ে বিচার, অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় আনা এবং তাদের শাস্তির মুখোমুখি করা, এটিই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন