প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতিতে বল করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন ব্রেট লি। তবে বর্তমান প্রজন্মের পেসারদের মধ্যে সেই গতির অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের বাড়তি চাপ, দীর্ঘ ক্যারিয়ার এবং আর্থিক নিরাপত্তার চিন্তায় বোলাররা নিজেদের সর্বোচ্চ গতির দিকে ফিরে আসছেন কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই পেসার।
‘উইজডেনস স্কুপ এক্সটেন্ডেড’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ধারাবাহিকভাবে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করতে সক্ষম এমন বোলারের সংখ্যা খুবই কম। তার মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিস্তার এবং সেখানে বিপুল অর্থের প্রলোভন পেসারদের বোলিংয়ের গতির চেয়ে ফিটনেস ধরে রাখার দিকে বেশি মনোযোগী করে তুলতে পারে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম বোলারদের মধ্যে একজন হলেন ব্রেট লি। ২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি ঘণ্টায় ১৬০ দশমিক ৮ কিলোমিটার গতিতে বল করেছিলেন। তার চেয়ে দ্রুত বল করার রেকর্ড রয়েছে কেবল পাকিস্তানের শোয়েব আখতারের। ২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শোয়েব ঘণ্টায় ১৬১ দশমিক ৩ কিলোমিটার গতিতে বল করেছিলেন।
এরপর থেকে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতির মাইলফলক ছুঁতে পেরেছেন খুব কম বোলার। আধুনিক ক্রিকেটে নিয়মিত ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করতে সক্ষম এমন পেসারের সংখ্যা হাতেগোনা।
লি আশা প্রকাশ করেন, তরুণ পেসাররা নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা কাজে লাগিয়ে গতির নতুন সীমা ছোঁয়ার চেষ্টা করবেন। তার ভাষায়, ‘আমি চাই বোলাররা ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতির মাইলফলক ছোঁয়ার চ্যালেঞ্জ নিক। কিন্তু এখন তেমনটা দেখছি না। তরুণ ফাস্ট বোলারদের দৌড়ে এসে প্রচণ্ড গতিতে বল করতে দেখতে চাই।’
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আর্থিক সুবিধা বোলারদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই তারকা। তার মতে, একজন বোলার হয়তো এখন ভাবছেন, বিশ্বের সাত-আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ পাবেন। সেখান থেকে বিপুল অর্থ আয় করে ১৫ থেকে ২০ বছর, এমনকি ১০ বছরের ক্যারিয়ার দিয়েও ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে পারবেন।
লি বলেন, ‘সেটা করতে হলে আপনাকে ক্রিকেট মাঠে থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতির মাইলফলক হয়তো আর তাদের কাছে ততটা আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে না। বরং তারা ঘণ্টায় ১৩৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতির মধ্যে থাকতে চাইছেন, যাতে শরীরের ওপর চাপ কম পড়ে।’
বোলারদের এমন প্রবণতাকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখছেন লি। কারণ, দর্শক হিসেবে তিনি পেসারদের দৌড়ে এসে প্রচণ্ড গতিতে বল করতে দেখতে চান। তার মতে, আধুনিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ফিট থাকার চিন্তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও ফাস্ট বোলারদের আগ্রাসন ও গতির চ্যালেঞ্জ হারিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন