প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুদি দোকান ও কাঁচাবাজারকে করের আওতায় আনার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে গিয়ে জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেছেন, এ বিষয়ে আমাদের নিঃসন্দেহে উদ্বেগ প্রকাশ করতে হবে। জনগণের জন্য স্বস্তি প্রদান করা প্রয়োজন। অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে করের আওতা বাড়ানো হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে করদাতাদের সক্ষমতা অনুযায়ী ফ্ল্যাট রেটে কর নির্ধারণ করা হবে।
রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং রাজস্ব আদায় কার্যক্রমকে পৃথক করা হবে। এই লক্ষ্যে আমলাতন্ত্রের বাইরে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি স্বাধীন নীতি-নির্ধারণী সংস্থা নির্মাণ করা হবে। তিনি আশাপ্রকাশ করেন, কর ফাঁকি রোধে কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার আগামী অর্থবছরে নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে।
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও কর সংস্কার, অটোমেশন এবং কর ফাঁকি রোধে কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে। সাকি বলেন, অনেক সংসদ সদস্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার এবং এর অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাজেটের আকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৩ শতাংশ, যেখানে প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন দেশে সাধারণত বাজেটের আকার জিডিপির ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশ হয়ে থাকে।
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের জনসংখ্যা এবং দেশকে আমরা যে অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই, সেই বিবেচনায় এটি আসলে ছোট একটি বাজেট।'
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি 'ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতি' উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে এবং পুনর্গঠন ও দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই বাজেট প্রণয়ন করেছে।
জুনায়েদ সাকি বলেন, এটি সংকোচনমূলক নয়, বরং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি প্রসারণশীল বাজেট, যা উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেছে।
বাজেটের অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগের জবাবে সাকি স্বীকার করেন যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অতীতের কর্মদক্ষতার কারণে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে গত চার মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কর ফাঁকি, কর জালিয়াতি এবং অতিরিক্ত কর রেয়াতের কারণে সরকার প্রয়োজনীয় রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে। এসব অনিয়ম রোধে কর প্রশাসনে অটোমেশন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সাকি আরও বলেন, রোববার এনবিআরসহ আরও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে অটোমেশন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন