প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তারা সহপাঠী হিসেবে পরিচয় পেয়েছিলেন। সেই পরিচয়ের হাত ধরে তাদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, বন্ধুত্ব শেষে প্রেম, এরপর আসে পরিণয়।
অবশেষে জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে তারা একসঙ্গে সাফল্যের আস্বাদ গ্রহণ করলেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থী এই দম্পতি হলেন সাহাজ উদ্দিন বাদল ও জেরিন আক্তার স্বর্ণা।
সম্প্রতি প্রকাশিত ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে উভয়েই কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (সহকারী পরিচালক) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। বাদল ও স্বর্ণা বাকৃবির কৃষি অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র-ছাত্রী। একই অনুষদে, একই বর্ষের সহপাঠী থেকে জীবনসঙ্গী হয়ে এবার একই ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় তাদের সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষক, সহপাঠী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাদের অভিনন্দনায় সিক্ত করছেন।
তাদের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম, একে অপরের সহযোগিতা এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার গল্প। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি তারা ভবিষ্যতের লক্ষ্য সামনে রেখে নিয়মিত বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
সাহাজ উদ্দিন বাদল বলেন, ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের পরিচয় হয়।
সময়ের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব গভীর হয়ে যায়, এরপর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দুই পরিবারের সমর্থন ও বন্ধুদের সহযোগিতা তাদের পথচলাকে সহজ করে দিয়েছে।
বিসিএস প্রস্তুতির প্রসঙ্গে বাদল জানান, ৪৪তম বিসিএসে আবেদন করলেও তারা পরিকল্পিত প্রস্তুতি শুরু করেন ৪৫তম বিসিএস থেকে। প্রথমবার প্রিলিমিনারিতে ব্যর্থ হলে তারা থেমে যাননি। ৪৬তম বিসিএসে বাদল প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ হন, তবে স্বর্ণা সফল হননি। এই অভিজ্ঞতা তাদের আরো মনোযোগী করে তোলে।
বাদল আরো জানান, বিসিএস ছাড়াও তারা অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি তিনি সোনালী ব্যাংকের অফিসার (জেনারেল) পদে এবং স্বর্ণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এসব অর্জন তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বৃদ্ধি করেছে।
জেরিন আক্তার স্বর্ণা বলেন, এই সাফল্য তার একার নয়; পরিবার ও স্বামীর অবদান এখানে সবচেয়ে বেশি। প্রতিটি ব্যর্থতার সময় বাদল তাকে সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, যা সামনে এগিয়ে যেতে শক্তি প্রদান করেছে।
দুজনই জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ছিল তাদের নিয়মিত পড়াশোনার প্রধান স্থান। সেখানে একসঙ্গেই তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং পরস্পরকে সহযোগিতা করে নিজেদের লক্ষ্য পূরণের পথ প্রশস্ত করেছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তারা বলেন, বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হতে ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং পারস্পরিক অনুপ্রেরণার বিকল্প কিছুই নেই। কর্মজীবনে তারা সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে দেশের সেবা করার অঙ্গীকার করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন