প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে নতুন মোড়বিরোধ করেছে হিজবুল্লাহর ড্রোন। ইরানের স্বল্পমূল্যের শাহেদ ড্রোন নিয়ে আলোচনা চললেও, বর্তমানে ইসরায়েলের জন্য একটি বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে হিজবুল্লাহর ছোট, বিস্ফোরকবাহী ‘নাইট হান্টার’ ড্রোন। এই ড্রোনগুলো তাপ শনাক্তকারী প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্ধকারের মধ্যেও লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম, যা যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন প্রকারের হুমকি তৈরি করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ এখন ‘ফার্স্ট-পারসন ভিউ’ (FPV) ড্রোন ব্যবহার করছে, যা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ দ্বারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এই ড্রোনগুলোর মধ্যে থার্মাল সেন্সরের উপস্থিতির কারণে রাতের সময় মানবদেহের তাপ শনাক্ত করে লক্ষ্য নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান লুকিয়ে রাখা অধিক কঠিন হয়ে পড়ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি ঘটেছে ফাইবার-অপটিক প্রযুক্তি ব্যবহারে। এসব ড্রোন উড্ডয়নের সময় একটি তারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে, যা পেছনে খুলে যায়। সেজন্যই ইলেকট্রনিক জ্যামিং বা সংকেত বিচ্ছিন্ন করার প্রচলিত পদ্ধতির কার্যকারিতা এখানে কাম্য নয়। এটি অসম যুদ্ধ কৌশলে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন ইতোমধ্যে ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে বৃহৎ নিরাপত্তা উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলের ১১ জন সেনা নিহত হন, যার মধ্যে অন্তত ৭ জন ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ক্যামেরন চেল জানান, এই ছোট ক্যাটাগরির ড্রোনগুলো সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করে দ্রুত আঘাত বা নজরদারি সম্পন্ন করা যায়। তার মতে, হিজবুল্লাহর এ রাতে সক্ষমতা যুদ্ধের চিত্র পরিবর্তন করে দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে ড্রোন ব্যবহারের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে বাড়তে থাকা এ হুমকির মোকাবিলায় ইসরায়েলি বাহিনী অপ্রচলিত পদ্ধতি গ্রহণ করতে শুরু করেছে। মাছ ধরার জাল অথবা ফুটবল মাঠের জাল ব্যবহার করে ড্রোন আটকানোর প্রচেষ্টা চলছে। সেই সাথে ইলেকট্রনিক জ্যামিং, নেট গান এবং স্থাপনা ঘিরে বিশেষ জাল স্থাপনের মতো নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়েও চিন্তা শুরু হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন