প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুখের গঠন আরও আকর্ষণীয় করতে বা জওলাইন স্পষ্ট দেখানোর উদ্দেশ্যে অনেকেই নিয়মিত চুইংগাম চাবান। যাদের মধ্যে এই বিশ্বাস রয়েছে যে, এতে মুখের অতিরিক্ত মেদ কমে যায় এবং মুখ আরও চিকন দেখায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই বিষয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেন এবং তারা বলেন, এই ধারণার পক্ষে তেমন কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
অর্থোপেডিক সার্জন ও ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এটি সম্পর্কে বলেন। দীর্ঘ সময় ধরে চুইংগাম চাবানোর প্রভাব মুখের চর্বির ওপর নয়, বরং চোয়ালের পেশি ও জয়েন্টের ওপর বেশি পড়ে।
চোয়ালের দুই পাশে টেম্পোরোম্যান্ডিবুলার (টিএম) জয়েন্ট আমাদের কথা বলা, খাবার চিবানো এবং মুখ নড়াচড়া করার কাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাঝে মাঝে চুইংগাম চাবানো সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে একই কাজ করতে থাকলে চোয়ালের জয়েন্ট ও আশপাশের পেশিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এর ফলে এক ধরনের পুনরাবৃত্ত চাপজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অতিরিক্ত চুইংগাম চাবানোর কারণে চোয়ালে ক্লিক বা টিকটিক শব্দ হওয়া, জয়েন্টে অস্বস্তি বা শক্তভাব অনুভব করা, কানের পাশ কিংবা কপালে মাথাব্যথা এবং খাবার চাবানোর সময় ব্যথা হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
মুখের মেদ কমানোর বিষয়ে চিকিৎসকরা বলেন, চুইংগাম চাবানোর ফলে চোয়ালের পেশি কিছুটা সক্রিয় বা শক্তিশালী হতে পারে, কিন্তু এর মাধ্যমে মুখের চর্বি কমানো সম্ভব নয়। শরীরের নির্দিষ্ট কোনো অংশের মেদ শুধুমাত্র সেই অংশ বেশি ব্যবহার করলেই কমে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। ফলে চুইংগাম চিবিয়ে মুখ চিকন করার দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, চোয়ালের জয়েন্টকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া উচিত। তাই মাঝে মাঝে চুইংগাম খাওয়া যেতে পারে, তবে দীর্ঘ সময় ধরে চাবানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভালো। মুখের সৌন্দর্য বাড়াতে বা দ্রুত জওলাইন তৈরি করতে অতিরিক্ত চুইংগামের ওপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই বেশি কার্যকর। অতিরিক্ত চাবানোর ফলে বরং চোয়ালে ব্যথা ও অন্যান্য অস্বস্তি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন