প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে, জাল নথি ব্যবহারের বিষয়সহ অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। এই তথ্য সোমবার (১৫ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খানের স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন: মাঞ্জুর প্রধানিয়া (৩৫), মো. ওসমান গনি (২৫) এবং কাজী মো. আতা-ই-রাব্বি (২৮)।
সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেলের একটি দল শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৪টায় রাজধানীর উত্তর বাড্ডার রূপায়ণ মিলেনিয়াম স্কয়ারে অবস্থিত ‘সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স’ নামক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করে।
সিআইডি জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারনা করা হয়েছে, জর্ডানের আম্মানে অবস্থিত ‘জেরাশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড’-এর নাম, লোগো ও সিলমোহর জাল করে তারা শ্রমিক ভিসায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছিল।
এ বিষয়ে জেরাশ গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস, জর্ডানের মাধ্যমে অভিযোগ জানায়। পরবর্তীতে, অভিযোগটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলে সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেল অনুসন্ধান শুরু করে।
তদন্তের过程中 আরও জানা যায়, যদিও সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স একটি ট্রাভেল এজেন্সি, তাদের কাছে কোনো বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই। তারপরও তারা ফেসবুক পেজের মাধ্যমে জর্ডান, সৌদি আরব, সার্বিয়া ও মালয়েশিয়া সহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানোর বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছিল।
অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির অফিস হতে ৫৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, বিদেশগমন-সংক্রান্ত ১৬টি চুক্তিপত্র, দুটি সিপিইউ এবং একটি ডিভিআর জব্দ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জব্দ করা পাসপোর্টগুলোর মধ্যে ১৮টি জর্ডানগামী এবং বাকিগুলো সৌদি আরবগামী ব্যক্তিদের।
সিআইডির ভাষ্যমতে, অভিযুক্তরা বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করছিলেন, যা অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় তিন অভিযুক্তসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ১৫ ও ২০ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য চলমান তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে। মামলার তদন্ত বর্তমানে চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন