প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ অবসানে পাকিস্তান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার তাগিদ থেকে অব্যাহত রেখেছে। ইসলামাবাদে আলোচনা বিভিন্ন দফায় ভেস্তে যাওয়ার পরও উভয় পক্ষের মধ্যে নানা প্রস্তাবের আদান-প্রদান চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।
এমন প্রেক্ষিতে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এখন তেহরানে রয়েছেন। তিনি সেখানে পৌঁছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছে একটি ‘বিশেষ চিঠি’ পৌঁছে দিতে গেছেন, এমন কথা জানা গেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে এসে নাকভি দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাকভি।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নাকভি চিঠিটি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পক্ষ থেকে খামেনির উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। রবিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করা দুটি ইরানি আত্মঘাতী ড্রোন তাদের বাহিনী ভূপাতিত করেছে।
এর আগে শুক্রবার সেন্টকম জানায়, কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে পাঠানো সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে। একই দিনে, হরমুজ প্রণালির দিকে ছোড়া চারটি ইরানি ড্রোনও ধ্বংস করা হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনার জবাবে, ইরানের গারুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র।
এই হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বাহরাইন একে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে, যেখানে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর রয়েছে।
আর কুয়েত বলেছে, এ ধরনের হামলা ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ করছে। মিসর, জর্ডান ও কাতারও এ ঘটনাকে নিন্দা জানিয়েছে।
পারস্পরিক হামলাপালা হামলার মধ্যেও যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত নিরসনের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন সামরিক অভিযানের হুমকি দিলেও কূটনৈতিক অগ্রগতির ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি তিনি বলেন, সপ্তাহান্তে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। কিন্তু ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে সতর্ক অবস্থান রয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই সিএনএনকে জানান, ‘আলোচনা বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে এবং এই অচলাবস্থা দূর করার দায়িত্ব ট্রাম্পের।’
এসময় তিনি ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার আহ্বানও জানান। কেননা, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা চলমান আলোচনার অন্যতম প্রধান জটিল বিষয়।
এর পাশাপাশি সব ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধ করা, ইরানি তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, মার্কিন বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার করা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বাণিজ্যের বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা এবং কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর বড় ধরনের সংঘর্ষ অনেকটাই কমে এসেছে। কিন্তু ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রস্তাব আদান-প্রদান চলছে। এর মধ্যে কিছু দফা উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার কারণে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আবারও শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কার সৃষ্টি হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন