প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহীর তানোর উপজেলা, যা কৃষিপ্রধান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, সম্পূর্ণরূপে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এখানে বসবাসকারী শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ ধান চাষাবাদের মাধ্যমে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু চলতি আউশ মৌসুমে স্থানীয় চাষিরা ধানের নজিরবিহীন লোকসানে ভুগছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, তানোরে আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭৫ হেক্টর বেশি জমিতে আউশ ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। এসব জমিতে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।
তথ্য অনুসারে, তানোর পৌরসভার জিওল গ্রামের পূর্বদিকে বিল পাড়ে অবস্থিত সরনজাই ইউপির রহিমাডাঙ্গা মৌজায় ৯২ হেক্টর বা ৬৯০ বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৬০০ বিঘা জমিতে ৫৭, ৬৫ ও ৭৬ জাতের আউশ ধান রোপণ করা হয়েছিল। যদিও সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে, কৃষকদের মুখে কোনো হাসি নেই। এবারের আউশ ধান চাষে সার ও কীটনাশক সিন্ডিকেটের কারণে দ্বিগুণ দামে ক্রয় করতে হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত অর্থের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাঠপর্যায়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে ধান রোপণ ও পরিচর্যার জন্য খরচ হচ্ছে ৮ হাজার টাকা, কাটা ও বহণের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং মাড়াইয়ের জন্য আরও ৫ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতি বিঘার উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে কৃষকদের মোট ১৮ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু প্রতিবিঘায় উৎপাদিত ধানের ফলন হচ্ছে (২৮ কেজিতে) ২০ মণ। এই ধান খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা দরে।
বর্তমানে, কৃষকরা এই উৎপাদিত ধান বিক্রি করে পাচ্ছেন মাত্র ১৫ হাজার টাকা। ফলে লাভ তো দূরের কথা, প্রতিবিঘা জমিতে কৃষকদের সরাসরি ৩ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। পুরো তানোরজুড়ে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ধানের দাম চরমভাবে কম থাকায় তানোরের প্রান্তিক কৃষকরা এখন এক নীরব দুর্ভিক্ষের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
তানোর পৌর এলাকার জিওল গ্রামের কৃষক ওমর হাজী এবং বুরুজ গ্রামের কৃষক জুয়েলসহ শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক এই চরম লোকসানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, ধার-দেনা এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তারা আউশ আবাদ করেছিলেন। এখন বিঘাপ্রতি ৩ হাজার টাকা লোকসান হওয়ায় ঋণের টাকা পরিশোধ করা তো দূরের কথা, সংসারের দৈনিক খরচ চালানো তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিল পারের রহিমাডাঙ্গা মৌজার সাড়ে ৬০০ বিঘার এই বিশাল ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং কৃষকদের বাঁচাতে সরকারি পর্যায়ে দ্রুত ধান কেনা ও বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, "কৃষিপণ্যের দাম নির্ধারণ করে থাকে কৃষি বিপণন বিভাগ।" তিনি আরও জানান, "কৃষি দপ্তর চাষাবাদ কিভাবে হবে, কিভাবে রোগবালা দূর হবে এসব নিয়ে কাজ করে।" তবে, আউশ আবাদের পরিচর্যা ও রোগবালাই দমনে কৃষকদের কীটনাশক প্রয়োগে সঠিক পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ফলে আউশ ধানের মোটামুটি ভাল ফলন হয়েছে বলে তিনি জানান।
ই/তা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন