প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যেতে শুরু করবেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে স্বল্প খরচে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য দেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়া সফররত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মালয়েশিয়া সফরের তিন দিনের অগ্রগতি তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে দুই দেশের সরকারের মধ্যে একাধিকবার উচ্চপর্যায়ের ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনা পরিচালিত হয়েছে শ্রমবাজার পুনরায় চালু, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনার উদ্দেশ্যে। উভয় পক্ষই এই বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। নতুন কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্য হবে মধ্যস্বত্বভোগী প্রভাব হ্রাস করা। এ লক্ষ্যে বোয়েসেলের মাধ্যমে স্বল্প খরচে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মনে করেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই নতুন কর্মীরা মালয়েশিয়ায় আসা শুরু করবেন। পর্যায়ক্রমে পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানো হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার শ্রমবাজারকে সম্পূর্ণরূপে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাধারণ কর্মীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে নিরাপদ ও বৈধ উপায়ে মালয়েশিয়ায় আসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও জানান, বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতেও দুই দেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াটিকে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি বিষয়গুলো দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, চলমান আলোচনা শুধুমাত্র নতুন কর্মী পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের কল্যাণ, অধিকার সুরক্ষা এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, সরকার একটি এমন কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে যোগ্য কর্মীরা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তারা যেন অযৌক্তিক খরচ বা দালালচক্রের হয়রানির শিকার হন না।
তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর ফল যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় শুরু হবে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে কাজের গতি বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। তার মতে, কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কর্মীবান্ধব নীতি নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন