প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীন ইরানের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির কর্মসূচি গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এবার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বিরল মাটি’ বা রেয়ার আর্থ ধাতু নিয়ে দুই দেশ একত্রিতভাবে সহযোগিতা করতে যাচ্ছে।
চলতি বছরের যৌথ কর্মসূচিতে বিরল খনিজের অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তিকে সহযোগিতার একটি প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে চীনের ন্যাশনাল ন্যাচারাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (এনএসএফসি) এবং ইরান ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন। এ ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য পাঁচটি বিশেষ ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে, যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ‘বিরল মাটি উপাদানের অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ’।
এনএসএফসি স্পষ্ট করেছে যে, প্রতিটি কর্মশালার জন্য চীনের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার ইউয়ান (প্রায় ৪ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার) অর্থ প্রদান করা হবে।
এই অর্থ বিভিন্ন খরচ যেমন সভা, থাকার ব্যবস্থা এবং চীনের অভ্যন্তরে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হবে।
অন্যদিকে, ইরান ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন ইরানি অংশগ্রহণকারীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের খরচে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ইরান সফরে গমনকারী চীনা গবেষকদের থাকার ব্যবস্থা করার খরচও বহন করবে।
বিশেষভাবে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যুদ্ধ ও উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় এই সহযোগিতাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
বিরল মাটি বলতে ১৭টি ধাতুর একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে বোঝানো হচ্ছে। এই ধাতুগুলি চৌম্বকীয় এবং বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য কারণে আধুনিক প্রযুক্তিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান, রাডার সহ বিভিন্ন সামরিক ও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় এসব ধাতু ব্যবহৃত হয়।
চীনের হাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিরল মৃত্তিকা বা রেয়ার আর্থের মজুদ রয়েছে। দেশটি বিশ্বব্যাপী এসব খনিজের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে একটি শক্তিশালী আধিপত্য ধরে রেখেছে।
এছাড়াও, বিদেশে বিরল মৃত্তিকা প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রযুক্তি হস্তান্তর ধীরে ধীরে সীমাবদ্ধ করা হচ্ছে।
গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করবার পর বেইজিং বিরল মৃত্তিকা রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হতে দেখা যায় এবং বিরল মৃত্তিকার ক্ষেত্রে চীনের ওপর ওয়াশিংটনের নির্ভরতা স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।
অন্যদিকে, ইরানে বিরল মৃত্তিকার মজুদের পরিমাণ এবং সম্ভাবনা সম্পর্কে এখনও খুব কম তথ্য বিদ্যমান। তবে দেশটির বিরল মৃত্তিকার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের ভূতাত্ত্বিক গঠনে লৌহ আকরিক ও ফসফেটের স্তর অবস্থিত আছে, যা বিরল মৃত্তিকার মজুদ থাকার জন্য অনুকূল হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক হেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ফেব্রুয়ারির একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানের মাধ্যমে মধ্য ইরানের প্রায় ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার অঞ্চলে বিরল মৃত্তিকার উপস্থিতির সম্ভাব্য চিহ্ন শনাক্ত করা গেছে। তবে ইরানের বিরল মৃত্তিকা উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে অবস্থান করছে। শিল্প পর্যায়ে উৎপাদনে পৌঁছাতে দেশটির এখনও অনেক সময় প্রয়োজন।
চীন ও ইরানের দুইটি জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশনের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা শুরু হয় ২০১৭ সালে। সেই বছর বেইজিংয়ে দুই সংস্থা একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে। এনএসএফসি তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেছে যে, ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দুই দেশের জনগণ উপকৃত হবে।’
এরপর থেকে দুই সংস্থা গণিত, জীববিজ্ঞান, চিকিৎসা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পদার্থবিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণা প্রকল্পে অর্থায়ন করে আসছে।
২০২৪ সালে দুই দেশ যৌথ কর্মশালা কর্মসূচি চালু করবে। শুরুতে জলবায়ু পরিবর্তন, এআই, উন্নত উপকরণ ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন বিষয় এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রতিটি কর্মশালার জন্য দেড় লাখ ইউয়ান করে অনুদান দেওয়া হতো।
এবারের কর্মসূচিতে বিরল মৃত্তিকা অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি রোগ শনাক্তকরণ, দূষণ পর্যবেক্ষণ, ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নির্মাণ এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে ব্যবহারের জন্য ন্যানো উপকরণ নিয়ে গবেষণাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন