প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা মোকাবেলায় সপ্তাহে একবার হারের সঙ্গে ব্যবহৃত নতুন ‘ট্রিপল-অ্যাকশন’ ইনজেকশন রেটাট্রুটাইড বিপুল সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত ফেজ-৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলে এই নতুন ওষুধের কার্যকারিতা নিশ্চিত হচ্ছে। রক্তে শর্করার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পাশাপাশি এটি শরীরের ওজনও ব্যাপকভাবে কমাতে সক্ষম।
এই গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ৯৩০ জন টাইপ-২ ডায়াবেটিস আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের কেউ আগে ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করছিলেন না এবং তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে ছিল না। তাদের বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) অন্তত ২৩ ছিল।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ৪, ৯ অথবা ১২ মিলিগ্রাম রেটাট্রুটাইড অথবা প্লাসেবো দেওয়া হয়। ৪০ সপ্তাহ ধরে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা (এইচবিএ১সি), ওজন, কোলেস্টেরল, রক্তচাপ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সূচক পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকরা।
ফলাফলে দেখা যায়, যারা রেটাট্রুটাইড গ্রহণ করেছিলেন তাদের এইচবিএ১সি গড়ে ১ দশমিক ৭ থেকে ১ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট কম হয়েছে, যেখানে প্লাসেবো গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল মাত্র ০ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট। একই সময়ে রেটাট্রুটাইড গ্রহণকারীদের শরীরের ওজন গড়ে ১১ দশমিক ৫ থেকে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা প্লাসেবো গ্রুপের ২ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাসের তুলনায় চার গুণেরও বেশি।
গবেষকরা জানিয়েছেন, রেটাট্রুটাইডের বিশেষত্ব হলো এটি তিনটি অন্ত্র-হরমোন জিএলপি-১, জিআইপি এবং গ্লুকাগনের কার্যকারিতা একইসাথে অনুকরণ করে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওজেম্পিক ও ওয়েগোভি মূলত জিএলপি-১ কে অনুসরণ করে ক্ষুধা কমায়, এবং মাউনজারো জিএলপি-১ ও জিআইপির সমন্বয়ে কাজ করে। তবে, রেটাট্রুটাইড অতিরিক্ত ভাবে গ্লুকাগন রিসেপ্টরকে সক্রিয় করে শরীরের শক্তি ব্যয় বাড়ায়।
গবেষণায় কোলেস্টেরল ও রক্তচাপের উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। যদিও কিছু অংশগ্রহণকারীর মধ্যে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়, এর মধ্যে দুজন ছিলেন প্লাসেবো গ্রুপে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার এবং সময়ের সাথে তা কমে যায়। সাধারণত পরিপাকতন্ত্র-সংক্রান্ত সমস্যা ছিল সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
গবেষকরা মনে করছেন, টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আরো কার্যকর চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের জন্য এই নতুন ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ বিষয়ে আরো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলমান রয়েছে।
স্থূলতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. ক্যাথ ম্যাককালো মন্তব্য করেছেন, ডায়াবেটিস ও স্থূলতায় ভোগা অনেক মানুষের জন্য এ ধরনের চিকিৎসা সত্যিকার অর্থেই জীবন বদলে দিতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ওষুধ কোনো ‘জাদুকরী সমাধান’ নয়। দীর্ঘমেয়াদে রোগীদের এমন অবস্থায় পৌঁছাতে হবে যাতে তাদের এসব ওষুধের দরকার না হয়।
অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা গবেষণার সুবিধাদি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। গবেষণায় ওজন হ্রাসের মাত্রা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে রেটাট্রুটাইডকে জনপ্রিয় ওষুধ সেমাগ্লুটাইড বা টিরজেপাটাইডের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা হয়নি। শুধুমাত্র ওজন কমানোই স্বাস্থ্যগত ফলাফল নিশ্চিত করে না, রোগীদের পুষ্টি এবং পেশিশক্তি সংরক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষারও গুরুত্ব দিতে হবে।
ডায়াবেটিস ইউকের প্রধান ডা. লুসি চেম্বার্স বলেন, এই ফলাফলগুলো অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। নতুন শ্রেণির এই ওষুধ একই সঙ্গে ওজন কমানো ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে দ্বৈত সুবিধা দিতে পারে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও চিকিৎসার কার্যকারিতা জানার জন্য আরো গবেষণা প্রয়োজন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন