প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৭ সালের পবিত্র হজে বাংলাদেশের জন্য আরও ২০ হাজার হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ পেতে সউদ আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর দাবি করেছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।
সংগঠনটি জানিয়েছে, নির্ধারিত কোটা পূর্ণ হওয়ার পরও প্রায় ২০ হাজারের বেশি হজযাত্রী অপেক্ষমাণ রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই হজ পালনের জন্য মানসিক ও আর্থিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি হোটেলে হজ ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ অবস্থা জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার। এ সময় সভাপতি সৈয়দ গোলাম সারওয়ার, কার্য-নির্বাহী পরিষদ নেতা জাফর উদ্দিন, হাফেজ নূর মোহাম্মদ, অর্থ সচিব আব্দুল হামিদ, গোলাম মাহমুদ ভূঁইয়া মানিক, মুফতি জাহিদ আলম, কাউছার উদ্দিন, কামাল উদ্দিন দিলু, রফিকুল ইসলাম বিক্রমপুরী, আলহাজ মোহাম্মদ আজাদ, নাজিম উদ্দিন মোরশেদ আলম চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
হাবের মহাসচিব উল্লেখ করেন, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে (৯ জিলহজ ১৪৪৮ হিজরী) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর রাজকীয় সউদী সরকার বাংলাদেশের জন্য ৭৮ হাজার ৫০০ জনের হজ কোটা নির্ধারণ করেছে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত হজ কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হলেও বিগত কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে হজযাত্রীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এ কারণে রাজকীয় সউদী সরকার ২০২৭ সালের জন্য বাংলাদেশের কোটা কমিয়ে ৭৮ হাজার ৫০০ নির্ধারণ করেছে।
ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের গৃহীত সঠিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে হজযাত্রীর সংখ্যা আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর নিবন্ধনের নির্ধারিত সময়ে কোটা পূর্ণ হওয়ার পরও প্রায় ২০ হাজারের বেশি হজযাত্রী অপেক্ষমাণ রয়েছেন। তিনি বলেন, এসব হজযাত্রী মানসিক ও আর্থিকভাবে এ বছর হজ পালনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। এমনকি কিছু পরিবারের সদস্য নিবন্ধিত হয়েছেন, বাকিরা অপেক্ষমাণ রয়েছেন। হজ গমনেচ্ছু আল্লাহর মেহমানদের কথা বিবেচনা করে রাজকীয় সউদী সরকারের কাছে কমপক্ষে আরও ২০ হাজার হজ কোটা বরাদ্দ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের মূল কোটা অনেক বেশি হওয়ায় যৌক্তিক হারে এই বর্ধিত কোটা পাওয়ার দাবি রয়েছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইনের (কায়কোবাদ) সঙ্গে সউদী আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করলে অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব বলে আমাদের বিশ্বাস।
ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, ইতোমধ্যে ধর্মমন্ত্রী আশাবাদী বলে তাদের আশ্বস্ত করেছেন। তবে অপেক্ষমাণ হজযাত্রীরা উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। বাড়তি কোটা পাওয়ার বিষয়ে কূটনৈতিক পদক্ষেপ আরও জোরদার করার দাবি জানাচ্ছি। ২০২৭ সালের হজে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত হজযাত্রীদের আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের অনুরোধ জানিয়েছে হাব।
তিনি বলেন, ২০২৭ সালের নিবন্ধিত হজযাত্রীদের এ বছর প্যাকেজের সম্পূর্ণ টাকা আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। ইতোমধ্যে হজযাত্রীরা প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন। ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। অন্যথায় প্রাথমিক নিবন্ধন বাতিল বলে গণ্য হবে এবং এসব হজযাত্রীর হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত হজযাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত হজযাত্রীদের আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজের বাকি টাকা পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করে ২০২৭ সালে হজযাত্রা নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করছি। সংবাদ সম্মেলনে সউদী আরবে মেডিক্যাল ফি বাবদ আটকে রাখা অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন হাব মহাসচিব। তিনি জানান, এ বছর রাজকীয় সউদী সরকার কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা কিংবা নোটিশ ছাড়াই মেডিক্যাল ফি বাবদ তাদের প্রায় ৩০ লাখ সউদী রিয়াল আটকে দেয়। বিষয়টি জানার পর তারা তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করে আটকে রাখা টাকা ফেরত পেতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর দাবি জানায়।
ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘এ বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ দ্রুত পদক্ষেপ নেন। মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় গতকাল আমরা এই আটকে পড়া ৩০ লাখ সউদী রিয়াল ফেরত পাই। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে পাওনা বাকি টাকাও দ্রুত ফেরত দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান হাব মহাসচিব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন