ঢাকা শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিজরী
শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ইং ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বাং
ডিআরইউতে এআই প্রশিক্ষণ

গণমাধ্যমকর্মীরা প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যস্ত


গণমাধ্যমকর্মীরা প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যস্ত

সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর ব্যবহার ও দক্ষতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) চলছে একটি সাত দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা।

সোমবার (৪ মে) সকালে ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘AI-Powered Journalism: Opportunities, Risks and Digital Security’ এই শীর্ষক আয়োজনটি শুরু হয়।

এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ এবং গেমপ্লিফাই—এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই দারুণ কর্মশালা চলবে আগামী ৮ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সাত দিনে মোট সাতটি ব্যাচে ডিআরইউর সদস্যরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার সময়ে ডন সিন্ডিকেট সংস্কৃতি এতটা ছিল না: গোলাম মাওলা রনি

সাংবাদিকদের জন্য গুগল ট্রেন্ডস হলো একটি অত্যন্ত শক্তিশালী টুল। তৃতীয় দিনের প্রশিক্ষণে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিনিয়ত ট্রেন্ডিং সার্চ থেকে দারুণ সব কনটেন্ট আইডিয়া পাওয়া যায় এবং দর্শকরা কী খুঁজছে সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মেলে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। গুগল সার্চ ব্যবহারকারীদের এবং কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করে এই টুল। প্রশিক্ষণের তৃতীয় দিনের সেশনে এ বিষয়ে প্রাণবন্ত ও কার্যকর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।

আয়োজক গেমপ্লিফাই জানায়, দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে সাংবাদিকতায় এআই- এর মৌলিক ধারণা থেকে শুরু করে বাস্তব প্রয়োগ হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা এআই টুল ব্যবহার করে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে, রিপোর্ট লিখতে, সম্পাদনা করতে এবং আকর্ষণীয় শিরোনাম তৈরির পন্থা শিখছেন।

এছাড়া, ভুয়া তথ্য, অপতথ্য ও ডিপফেইক শনাক্ত করার পদ্ধতি এবং ফ্যাক্ট-চেকিং টুল ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এআই ব্যবহারের নৈতিকতা ও ঝুঁকি পরিচালনার বিষয়টিও প্রশিক্ষণের মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, বর্তমান সাংবাদিকতায় এআই একটি প্রযুক্তি মাত্র নয়, বরং এটি কাজের গতি, নির্ভুলতা ও বিশ্লেষণক্ষমতা বাড়ানোর এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সংবাদ সংগ্রহ থেকে শুরু করে যাচাই এবং উপস্থাপনায় এআই ভূমিকা রাখছে। তাই সাংবাদিকদের জন্য এআই নিয়ে দক্ষতা অর্জন এখন অত্যন্ত জরুরি, যাতে তারা পরিবর্তিত এই বাস্তবতায় আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেন।

আরও পড়ুন: ‘মারা গেলে আমার লাশ নড়াইলে নিও না’, বাবাকে আবেগঘন অনুরোধ মাশরাফি বিন মুর্তজার

এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুর রহমান জানান, এআই এখন সাংবাদিকতার কর্মপ্রক্রিয়াকে দ্রুত ও কার্যকর করে তুলছে। তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং উপস্থাপনায় এআই ব্যবহারের দক্ষতা না থাকলে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।

দিনের প্রথম সেশনে, ঢাকা পোস্টের হেড অফ নিউ মিডিয়া আরিফুল ইসলাম আরমান জেমিনি, চ্যাটজিপিটি এবং গুগল এআই স্টুডিওসহ বিভিন্ন টুলের ব্যবহার তুলে ধরেন। দ্বিতীয় সেশনে, ডেটা সাংবাদিকতা ও তথ্য বিশ্লেষণের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর সহকারী অধ্যাপক মালিহা তাবাসসুম।

দিনের শেষ সেশন পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এমডি সাইফুল আলম চৌধুরী। তিনি ডিজিটাল রিপোর্টিং, সোশ্যাল মিডিয়া স্টোরিটেলিং এবং গুগল ট্রেন্ডস ব্যবহারের মাধ্যমে অপতথ্য মোকাবিলার নানা কৌশল বিস্তারিত ভাবে ব্যাখ্যা করেন।

ডিআরইউ’র তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল বলেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যরা ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে এআই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন এবং হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা তৈরিতে আগ্রহী হচ্ছেন। গত তিন দিনে প্রায় দুইশ সদস্য এই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সকলে মনোযোগসহকারে নতুন বিষয়গুলো আয়ত্ত করার চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পরীক্ষিত নেতাদের নিয়ে ‘অশনিসংকেত’ প্রসঙ্গে রনির মন্তব্য

তিনি আরও বলেন, কনটেন্ট কীভাবে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় তা নিয়েও এখানে বিস্তারিত শেখানো হচ্ছে। যদি এআই সম্পর্কে ধারণা না থাকে তাহলে ভবিষ্যতে সাংবাদিকরা পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবেন। তাই এই প্রশিক্ষণ অংশগ্রহণকারীদের পেশাগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি। ভবিষ্যতেও সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নে এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমএম জসিম, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

প্রথম দিনে প্রায় ৫০ জন সংবাদকর্মী এই নিবিড় প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। গত শনিবার থেকে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়। এটি চলবে শুক্রবার পর্যন্ত।

আরও পড়ুন: ‘হামের টিকাদানের ব্যর্থতায় হাসিনা সরকারের কোনো দায় নেই’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরের গ্রামে উঠানে উঠানে বোরো ধানের সুবাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৪ই মে, ২০২৬ ইং

১০:৪০ পি.এম


রংপুরের গ্রামে উঠানে উঠানে বোরো ধানের সুবাস

রংপুর অঞ্চলে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটামাড়াই। পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালে এই অঞ্চলে কৃষি অফিস বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৪ লাখ ৪৯ হাজার হেক্টর। সেই বছর লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে অর্থাৎ ৫ লাখ ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের রেকর্ড হয়েছিল। এরপর আর লক্ষ্যমাত্র কমেনি। 

এবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫ লাখ ৩ হাজার হেক্টর। সেখানে আবাদ হয়েছে ৫ লাখ ৯ হাজার হেক্টর জমিতে। গত পাঁচ বছর থেকে এই অঞ্চলের বোরো চাষিদের বোরো ধান চাষে আগ্রহ বেড়েছে। প্রকৃতিতে যতদূর চোখ যায় শুধু বোরো ধানের মৌ-মৌ গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে। ধানের গন্ধে মাতোয়ারা কৃষক-কৃষাণী। 

ধান কাটার শ্রমিক সংকটে এবারও রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার কৃষি মৌসুমি শ্রমিকরাও রয়েছে চাঙ্গাভাবে। বেড়েছে তাদের কদর। এবার বোরো মৌসুমে ধান কাটা মাড়াই করে একমাসে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আয় করবেন কৃষি শ্রমিকরা। গত কয়েক মৌসুম থেকে কৃষি শ্রমের মূল্য ৫/৬ গুণ বৃদ্ধি হওয়ায় শ্রমিকরা বেজায় খুশি। বাজারে ধানের দাম স্বাভাবিক থাকায় কৃষকরাও শ্রমিকদের বেশি মূল্য দিতে কার্পণ্য করছেন না ।  

জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলে পাঁচ জেলার বোরোধান আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা বেশি হয়েছে। প্রতি হেক্টেরে চালের গড় উপৎপাদন ধরা হয়ছে ৪ দশমিক ৫ মেট্রিক টন। সেই হিসেবে ২৩ লাখ মেট্রিকটন চাল উৎপাদনের আশা করা যাচ্ছে। ধানের হিসেবে ৩৫ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে। সোমবার পর্যন্ত মোট আবাদের ৭ শতাংশ ধান কাটা-মাড়াই হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে আরও ২০ শতাংশ ধান কৃষকের গোলায় উঠবে এমনটা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। 
এদিকে ধান কাটা মাড়াই করতে কৃষি শ্রমিক পাওয়াই দুস্কর হয়ে পড়েছে। দিন হাজিরায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। 
মিঠাপুকুরের কৃষকহাবিবুর রহমান, রংপুর সদরের গৌরাঙ্গ রায়, মন্টুমিয়াসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, হাট বাজারগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির বোরো ধান কেনা বেচা হচ্ছে এক হাজার টাকা পর্যন্থ। কোথাও এরচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।   
কৃষকরা জানান, ৫ বছর আগেও ১ একর জমির ধান কাটা মাড়াই করতে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা লাগত। এক দোন (২৪শতক) জমির ধান কাটা মাড়াই করে ঘরে তুলতে কৃষকদের খরচ হচ্ছে চার হাজার টাকার ওপর। সেই হিসেবে প্রতি একরে খরচ পড়ছে প্রায় ১২/১৪ হাজার টাকা। 
অপরদিকে, দিন হাজিরায় যেসব শ্রমিক কাজ করত তাদেরও মজুরি বেড়েছে কয়েকগুণ।  
 
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুরে প্রায় ১০ লাখ, নীলফামারীতে ৫ লাখ, লালমনিরহাটে ৪ লাখ, গাইবান্ধায় ৬ লাখ, কুড়িগ্রামে ৭ লাখ, দিনাজপুরে ১২ লাখ, ঠাকুরগাঁয়ে ৭ লাখ, পঞ্চগড়ে ৩ লাখ কৃষি শ্রমিক রয়েছে। এরা শুধু বোরো ও  আমন মৌসুমে ধানা কাটা মাড়াইয়ের কাজ করেন। অন্য সময়ে এরা শহরে রিকশা, ভ্যান অথবা অন্য কোন পেশা গ্রহণ করে জীবিকা নির্বাহ করে। 

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার পর্যপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদের সেচ বাবদ ব্যয় কিছুটা সাশ্রয় হয়েছে। ফলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি ভাতা পেতে ঘুষ নয়: অনিয়ম হলে অভিযোগ জানানোর আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৪ই মে, ২০২৬ ইং

১০:৪২ পি.এম


সরকারি ভাতা পেতে ঘুষ নয়: অনিয়ম হলে অভিযোগ জানানোর আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

নেছারাবাদ উপজেলাসহ পিরোজপুর-২ আসনের তিন উপজেলায় সরকারি সুবিধা যেমন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভতাসহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঘুষ বা উৎকোচ গ্রহণের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে অবস্থান নিয়েছেন সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। তিনি ভুক্তভোগীদের সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্যে তিনি সংসদীয় আসনের তিনটি উপজেলায় এ ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (৪ মে) বিকেলে নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি বার্তা প্রকাশ করেছেন। প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর জানিয়েছেন, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রদত্ত সকল ভাতা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বা জনপ্রতিনিধি এসব সুবিধার বিনিময়ে ঘুষ দাবি করে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন। অভিযোগ জানানোর জন্য তিনি তিনটি দপ্তরের নাম উল্লেখ করেন। ওই তিনটি দপ্তর হলো, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি বাস্তবায়নে তার অবস্থান স্পষ্ট এবং অনড়। জনগণের সেবায় নিয়োজিত কেউ যদি অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি তার বার্তায় সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার এবং সাহসের সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাল বাজারে উঠছে সাতক্ষীরার আম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৪ই মে, ২০২৬ ইং

১০:৪২ পি.এম


কাল বাজারে উঠছে সাতক্ষীরার আম

ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া এবং মাটির গুণাগুণের কারণে দেশের সর্বপ্রথম বাজারে উঠতে শুরু করেছে সাতক্ষীরার আম। জেলা প্রশাসন ও কৃষি অধিদপ্তরের আয়োজনে, আজ ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগ, গোপাল ভোগ, গোলাপ খাস, বোম্বাই, বৈশাখীসহ পরিপক্ক আম গাছ থেকে ছাড়ানোর মাধ্যমে বাজারজাতকরণ শুরু হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এবছর সাতক্ষীরায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর ঝড় ঝাপটার মধ্যে না পড়লে এবছর সাতক্ষীরায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। যা প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা বাজারজাত হবে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সাতক্ষীরার উৎপাদিত আম।

জেলা প্রশাসন ঘোষিত আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৫ মে সকাল থেকে গাছ থেকে আম ছাড়ানো শুরু হবে। একই সাথে সাতক্ষীরার বড় আমের হাট সুলতানপুরের বড়বাজারের আড়তগুলোতে পাওয়া যাবে গোবিন্দভোগ, গোলাপ খাস, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, বৈশাখীসহ স্থানীয় জাতের দেশীয় আম। আর ১৫ মে হিমসাগর, ২৭ মে ল্যাংড়া এবং আম্রপালি জাতের আম বাজারজাত করা যাবে ৫ জুন থেকে।

মূলত এ কারণেই জেলার আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের মাঝে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্বাদে অন্যান্য হওয়ায় সাতক্ষীরার আমের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা শীর্ষে রয়েছে।

এ বছরও আমের রাজ্য সাতক্ষীরা থেকে গোবিন্দভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া এবং আমরুপালিসহ ১০০ মেট্রিক টন আম ইউরোপ ও আমেরিকায় রপ্তানি হবে। যা থেকে সরকার প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার খামারবাড়ির তথ্য মতে, জেলায় আম বাগানের সংখ্যা ৩২০টি, চাষি ও ব্যবসায়ীদের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার মেট্রিক টন, বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০০ টন আম।

পারকুকরালী এলাকার আম চাষি মোহাম্মদ আলী জানান, তার ২৫ লাখ টাকার আম বাগান বিক্রি হয়েছে। বাগানে এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৪০ লক্ষাধিক টাকার আম বেচাবিক্রি হবে।

এদিকে আম ব্যবসাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা অবস্থান নিয়েছেন সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায়। তারা বাজার ও बাগান ঘুরে দেখছেন।

সাতক্ষীরা বড় বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু বলেন, 'ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি বোঝার জন্য ঘুরছেন। এখনই দাম বলা যাবে না। তবে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে পরিপক্ক পাকা প্রতি মন গোবিন্দভোগ আম বিক্রি হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তবে ৫ মে সকাল থেকে প্রশাসন ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম বাজারে আসার পর জাত ও শ্রেণিভেদে কোন আম প্রতি মণ কত দামে বিক্রি হবে তখন বলা যাবে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, এ বছর সাতক্ষীরা আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝড় ঝাপটার কবলে না পড়লে কৃষকরা ব্যাপকভাবে লাভবান হবে। এ বছর সাতক্ষীরার আমের বেচাকেনার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা।

এছাড়া, কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যেন বাজারে অপরিপক্ক কেমিক্যাল মিস্ত্রিত আম বিক্রি করতে না পারে সেজন্য 'মাসজুড়ে আম ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা রোধে প্রশাসনিক তৎপরতা মাঠে থাকবে। ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কোনো প্রকার কেমিক্যাল-মিশ্রিত আম বাজারজাত করা যাবে না। জানা গেছে, ধরা পড়লে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়ে ৩০ মেট্রিক টন কেমিক্যাল মিশ্রিত অপরিপক্ক আম ধ্বংস করা হয়েছে।

নির্দেশনা একটাই: পরিপক্ব নিরাপদ বিষমুক্ত আম বাজারজাত করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাড়িচালকের ছেলে থেকে বিধায়ক, রাজনীতির ময়দানেও ‘নায়ক’ থালাপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৪ই মে, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ পি.এম


গাড়িচালকের ছেলে থেকে বিধায়ক, রাজনীতির ময়দানেও ‘নায়ক’ থালাপতি

তামিলনাড়ুর দীর্ঘ ছয় দশকের দ্রাবিড় রাজনীতির প্রথাগত সমীকরণকে চুরমার করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিলো অভিনেতা বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে)। সোমবার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, রুপালি পর্দার ‘থালাপতি’ এবার বাস্তব রাজনীতির ময়দানে অপরাজেয় সেনাপতি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় বিজয়ের দল ১০০-র বেশি আসনে এগিয়ে থেকে চেন্নাইয়ের মসনদ দখলের পথে এগিয়ে চলেছে। তবে এই মহাবিজয়ের মাঝে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে বিরুগামপাক্কাম আসনের ফলাফল। সেখানে বিজয়ের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত গাড়িচালকের ৩০ বছর বয়সী ছেলে শবরীনাথন এক রূপকথার জয় পেয়ে গেছেন। ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মতো হেভিওয়েট প্রার্থীদের ২২ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে শবরীনাথন এখন তামিল রাজনীতির অন্যতম বড় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এবারের নির্বাচনে শাসক দল ডিএমকে-র জন্য পরাজয় ছিল অত্যন্ত গ্লানিকর। খোদ মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন নিজেই তাঁর দুর্গ হিসেবে পরিচিত কোলাথুর আসনে টিভিকের প্রার্থী ভি এস বাবুর কাছে পরাজয় কামনা করেছেন। যদিও স্ট্যালিন-পুত্র উদয়নিধি স্ট্যালিন চিপাক-তিরুভল্লিকেনি আসন থেকে কোনোমতে জয় ছিনিয়ে নিয়ে নিজের সম্মান রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে, অভিনেতা বিজয় নিজে পেরাম্বুর এবং তিরুচিরাপল্লী (পূর্ব)—উভয় আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে রাজনীতির আঙিনায় নিজের একাধিপত্যের জানান দিয়েছেন। পেরাম্বুরে তিনি প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে ডিএমকে প্রার্থীকে পরাজিত করে হ্যাটট্রিক জয়ের আনন্দ উপভোগ করেছেন। গণনা প্রায় শেষের দিকে, এবং তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মানচিত্র বর্তমানে গেরুয়া বা কালোর বদলে টিভিকের পতাকায় ছেয়ে গেছে। যদিও টিভিকে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার ১১৮-র ঠিক দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, তবু সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উৎসাহের অন্ত নেই। সরকার গড়ার প্রয়োজনীয় সমর্থন বিজয় কংগ্রেস, এআইএডিএমকে নাকি অন্য কোনো আঞ্চলিক শক্তির কাছ থেকে নেবেন, তা নিয়েই এখন রাজ্য রাজনীতিতে চলছে জোর জল্পনা। সব মিলিয়ে থালাপতির এই উত্থান দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করছে। সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৩:৫২
জোহর ১১:৫৬
আসর ০৪:৩৩
মাগরিব ০৬:৩৪
ইশা ০৭:৫৩
সূর্যোদয় : ০৫:১৬ সূর্যাস্ত : ০৬:৩৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%