প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিল্লির মালব্য নগরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিক শামিয়া চৌধুরী একটি গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য হলো, অগ্নিকাণ্ডে নিহত স্বজনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রথমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দিল্লিতে অবস্থিত দূতাবাসে তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার রুপি দাবি করা হয় এবং তা আদায় করা হয়।
বার্তা সংস্থা 'এএনআই'-এর সাথে আলাপকালে শামিয়া চৌধুরী জানিয়েছেন যে, দুর্ঘটনার পর তাঁদের পরিবারকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে মরদেহ পরিবহনের সমস্ত খরচ সরকার বহন করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি।
শামিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘সরকার আশ্বাস দিয়েছিল যে বিনামূল্যে মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছে দেওয়া হবে, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। উল্টো আমাদের কাছ থেকে দূতাবাসে ১,৮০,০০০ রুপি নেওয়া হয়েছে। আমি জানতে চাই, কেন এটি বিনামূল্যে করা হলো না? আমরা এই টাকা ফেরত পাব কি না জানি না, তবে কেন আমাদের কাছ থেকে এই টাকা দাবি করা হলো, আমি তার স্পষ্ট জবাব চাই।’'
তিনি আরও জানান যে, পুলিশের মাধ্যমে তিনি তাঁর কিছু জিনিসপত্র ফেরত পেয়েছেন, তবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মালামাল এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতিচারণা করে শামিয়া বলেন, ‘‘হ্যাঁ, আমি পুলিশের কাছ থেকে আমার কিছু জিনিসপত্র পেয়েছি। সেজন্য আমি কৃতজ্ঞ। যদিও কিছু জিনিস এখনো পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের সময় আমি ভবনের তৃতীয় তলার ৩০২ নম্বর রুমে ছিলাম, আমরা সেখানে পাঁচজন ছিলাম। সকাল ৮টার দিকে আগুন লাগে। আমার মনে হয়েছিল আমি আর বাঁচব না—আমি মারা যাচ্ছি। মনে হচ্ছিল এটাই আমার শেষ সময়, এই পৃথিবীতে আমি আর থাকব না। সেই মুহূর্তের আতঙ্ক ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’’
এদিকে, দিল্লির সচিবালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ এবং আবেগঘন অনুষ্ঠানে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা মালব্য নগরের হাউজ রানি এলাকার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং সাকেতের সাইদুলাজাব এলাকায় ধসে পড়া ভবনের ঘটনায় প্রাণ হারানো মানুষদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
দিল্লি মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সেইসব সাহসী নাগরিক, পুলিশ সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং উদ্ধারকর্মীদের সম্মানিত করেছেন, যাঁরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে অন্য মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছেন। তাঁদের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রশংসাপত্র এবং ২১,০০০ রুপির চেক উপস্থিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালব্য নগরের বিধায়ক সতীশ উপাধ্যায় এবং ছাতারপুরের বিধায়ক কার্তার সিং তানওয়ার। অনুষ্ঠান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে রিয়াজুদ্দিন মনসুরি নামের এক স্থানীয় নাগরিককে সম্মানিত করেন। হাউজ রানির অগ্নিকাণ্ডের সময় রিয়াজুদ্দিন অসাধারণ সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে ভবনের নিচে তোশক বিছিয়ে দিয়েছিলেন, যার ফলে ওপর থেকে লাফিয়ে পড়া বেশ কয়েকজন মানুষের প্রাণ বেঁচে যায়।
তাঁর এই মানবিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী তোশকগুলোর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎসাহভাতা হিসেবে তাঁকে ২১,০০০ রুপির একটি চেক প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে উভয় দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে দুই মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হওয়ায় মালব্য নগরের এই অগ্নিকাণ্ডে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন