প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যশোরে ঐতিহ্যবাহী মুক্তেশ্বরী নদী রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও পদযাত্রার কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টায় শহরতলীর পুলেরহাট সংলগ্ন মুক্তেশ্বরী নদী এলাকার এই কর্মসূচির আয়োজন করে ‘মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন যশোর’।
কর্মসূচিতে কমিটির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও নদীপাড়ের বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বক্তারা মুক্তেশ্বরী নদী দখল করে নির্মিত আদ-দ্বীন সখিনা হাসপাতালের স্থাপনাসহ সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ভৈরব নদীর অন্যতম শাখা মুক্তেশ্বরী যশোর শহরের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে সদর, মণিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও ডুমুরিয়া উপজেলা অতিক্রম করে সমুদ্রে মিলিত হয়েছে। ভবদহ অঞ্চলের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের সঙ্গে এই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ গভীরভাবে জড়িত।
কিন্তু উজানে ভৈরব নদীর সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সুযোগ নিয়ে আদ-দ্বীনসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী দখলদার নদীর জায়গা দখল করেছে। তারা নদীর বুক ভরাট করে প্লট বিক্রি, বহুতল ভবন নির্মাণ ও কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে নদীর সীমানা গ্রাস করছে। বক্তারা অভিযোগ করেন যে, দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নদীর শ্রেণি পরিবর্তন করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে। ক্রমাগত এই দখল এবং ভরাটের কারণে বিল হরিণা এলাকায় শত শত একর জমি দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতায় রূপ নিচ্ছে।
নদী পাড়ের সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীরা অতিদ্রুত দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মুক্তেশ্বরী নদীতে প্রাণ ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। নেতারা ভৈরব নদীর সাথে মুক্তেশ্বরীর পুনরায় সংযোগ স্থাপন এবং দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে উজানে মাথাভাঙ্গার সাথে ভৈরব নদীর সংযোগের জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন যে, মুক্তেশ্বরী নদী বাঁচলে বাঁচবে যশোর ও ভবদহ অঞ্চলের মানুষ। দুর্নীতিবাজ ও নদী খেকোদের তৈরি করা ভুয়া কাগজপত্র বাতিল করে আদ-দ্বীন হাসপাতালের অবৈধ অংশসহ সকল স্থাপনা অবিলম্বে উচ্ছেদ করতে হবে।
মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন যশোরের আহ্বায়ক অনিল বিশ্বাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, তসলিম-উর-রহমান, জিলুর রহমান ভিটু, আহসান উল্লাহ ময়না, অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু এবং সদস্য সচিব রাশেদ খানসহ অনেকে।
মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে পুলেরহাট এলাকা থেকে বিশাল একটি পদযাত্রা বের করা হয়। পদযাত্রাটি চাঁচড়া ও মুজিব সড়ক হয়ে শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন