বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং
১১:৩২ পি.এম
ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন পরিচালিত হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়ে দেশের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়াকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই সংসদ কোনো আরামের জায়গা নয়, বরং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথাগুলি বলেছেন।
বক্তৃতার শুরুতে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু শ্রদ্ধা নিবেদন করলেই শহীদদের প্রতি কর্তব্য শেষ হবে না। তাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল মুক্তভাবে কথা বলা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান। আমাদের সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে।’
তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকার ইতিমধ্যে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে।
শিক্ষাঙ্গনে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী জুলাই মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ, ড্রেস এবং জুতা প্রদান করা হবে সরকারের পক্ষ থেকে।
তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার ছেলে ব্রিটেনে থাকে, আমাকেও রাজনৈতিক কারণে সেখানে থাকতে হয়েছে। তাদের স্কুল দেখে কষ্ট হতো। আমার দেশের শিক্ষার্থীরাও যেন সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে, সেই ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছি।’
নারীদের অবজ্ঞা করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী এবং উল্লেখ করেন, স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেইসঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
জ্বালানি সংকটের সমাধানে বিরোধী দলের প্রস্তাব অনুযায়ী যৌথ কমিটি গঠনের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উভয় পক্ষ বসে নিশ্চয়ই এই সমস্যার সমাধান করতে পারব।’
ঢাকা শহরের পানির স্তর নিচে নামা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করা হয়েছে যেন পরবর্তী প্রজন্ম এর সুফল ভোগ করতে পারে।
বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ও গন্তব্য এক–সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ। আমরা দ্বিমত পোষণ করব শুধুমাত্র গঠনমূলক আলোচনার জন্য। দেশের স্বার্থে যে কোনো বিল অথবা নীতি নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে বসতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। বিরোধী দলের জন্য ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাব এখনও উন্মুক্ত রয়েছে।’
৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে সরকার পরিচালনার চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই চেয়ারটি দেখলে মনে হয় অনেক আরামের, কিন্তু মোটেও তা নয়। প্রতি মুহূর্তে মনে হয় তপ্ত আগুনের হিট আসছে। রাজনীতিবিদ হিসেবে ইচ্ছা করলেই আমি অনেক জনপ্রিয় কথা বলতে পারি, কিন্তু এই চেয়ার আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে আমাকে জনপ্রিয় নয়, বরং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
অতীতের ১৭৩ দিনের হরতাল ও সংসদ ব্যর্থ করার রাজনীতির সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই সংসদের সফলতা মানেই ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আসুন, আমরা কেউ কাউকে ব্যর্থ করতে না চাই। এই সংসদ হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।’
আলোচনা এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণ শেষ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসছে পাকিস্তান, যা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ। স্পিন ও পেস, দুই ধরনের উইকেটের প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকা ও সিলেটে ভালো ফল চায় দলটি। নতুন দায়িত্ব পাওয়া কোচ সরফরাজ আহমেদ সমালোচনা উপেক্ষা করে ফল দিয়েই জবাব দিতে চান। আশা, পিএসএলের মতো টেস্টেও জ্বলে উঠবেন বাবর আজম।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টি-২০ সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত বাংলাদেশ দল। শনিবার (২ মে) মিরপুরে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচ। একই দিন ঢাকায় ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে পা রাখবে পাকিস্তান। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রে টেবিলের পাঁচে আছে মেন ইন গ্রিন। দুই ম্যাচে এক জয় ও এক ম্যাচ হেরেছে শান মাসুদের দল। দুই টেস্ট খেলে এখন পর্যন্ত কোনো জয় নেই বাংলাদেশের। এক ড্রয়ে তারা আছে টেবিলের আটে।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় এ সিরিজ বেশ গুরুত্বপূর্ণ পাকিস্তানের কাছে। টাইগারদের বিপক্ষে সিরিজ সামনে রেখে করাচিতে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করছে তারা।
করাাচির ন্যাশনাল ব্যাংক স্টেডিয়ামের হানিফ মোহাম্মদ হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে চলছে অনুশীলন। বাংলাদেশের উইকেট নিয়ে দ্বিধায় কোচ সরফরাজ আহমেদ। কারণ বরাবরই টাইগাররা তাদের শক্তির জায়গা স্পিনে গুরুত্ব দিয়েই উইকেট তৈরি করে। তবে, গত কয়েক সিরিজে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। তাই দুই ধরনের উইকেটেই প্রস্তুতি নিয়ে আসছে পাকিস্তান।
গণমাধ্যমকে সরফরাজ আহমেদ বলেন, ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দুই ধরণের উইকেটেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্পিন বা পেস যে ধরনের উইকেটই হোক না কেন, আশা করি আমাদের জন্য সেটা কোনো সমস্যা হবে না। আমরা আমাদের সেরাটা মাঠে দিতে চাই।’
আরও পড়ুন: ম্যাচ পরিত্যক্ত, সিরিজ জয়ের অপেক্ষা বাড়লো বাংলাদেশের
পাকিস্তানকে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি উপহার দেয়া অধিনায়ক বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ সামনে রেখে পেয়েছেন কোচের দায়িত্ব। গত মার্চে অবসর নেয়া সরফরাজের কোচ হিসেবে নেই তেমন কোনো অভিজ্ঞতা। তবুও তার কাঁধে দায়িত্ব দেয়ায় সমালোচনা হচ্ছে পিসিবির। তবে, এসব বিষয় মাথায় নিতে চান না সরফরাজ। তার সব মনোযোগ আপাাতত বাংলাদেশ সিরিজের দিকেই।
সরফরাজ বলেন, ‘আমার সাবেক সতীর্থরা আমাকে নিয়ে কী বলছে এসব নিয়ে পড়ে থাকলে আমি কাজ করতে পারব না। আমি আমার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। আমার টিম ম্যানেজমেন্টে ওমর গুল, আসাদ শফিক, গ্র্যান্ট লুডেন ও আব্দুল সাদের মতো নাম আছে। আশা করছি আমি তাদের নিয়ে সফল হতে পারব।’
বাংলাদেশে সিরিজ দিয়ে টেস্টেও রানে ফিরবেন বাবর আজম এমনটাই আশা সরফরাজের। পেশোয়ার জালমির হয়ে সবশেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন বাবর। ঢাকা ও সিলেটেও এমন পারফরম্যান্স চান কোচ। আগামী ৮ মে ঢাকায় দু'দলের প্রথম টেস্ট। ১৬ মে সিলেটে দ্বিতীয়ও শেষ টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের বাতু পাহাতে একটি নির্মাণাধীন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪ বাংলাদেশিসহ ২১ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশের অভিবাসন বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জোহর অভিবাসন বিভাগ এক বিবৃতিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
এতে বলা হয়েছে, গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিচালিত অভিযানে একটি অস্থায়ী আবাসন থেকে ১৭ জন ইন্দোনেশীয় (যার মধ্যে ৩ জন নারী) এবং ৪ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় কয়েকজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন তারা।
জোহর রাজ্যের অভিবাসন বিভাগের পরিচালক মো. রুসদি বিন মো. দারুস জানিয়েছেন, আটকদের বয়স ১৯ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, তারা বৈধ কোনো পারমিট ছাড়াই দেশটিতে অবস্থান করছিলেন এবং অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল।
অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটকদের বর্তমানে অধিকতর তদন্তের জন্য সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।
বিভাগীয় পরিচালক আরও জানান, অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ বা আশ্রয় দেয়ার বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। যেসব নিয়োগকর্তা বা চত্বরের মালিক নিয়ম ভঙ্গ করে এই প্রবাসীদের কাজে লাগিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয় পর্যায়ে অবৈধ অভিবাসন রোধে এ ধরনের চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সংসদ গ্যালারিকেই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ উল্লেখ করে সারাবিশ্বের সব বাংলাদেশি সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, সরকারি দলের অনেকে ৭২ এর সংবিধানকে সম্মান করেন। তবে এটি তারা করতে পারেন না। কারণ ৭২ এর সংবিধান পরিবর্তন করে গেছেন জিয়াউর রহমান। আমাদেরকে এমনভাবে বলা হয় যেন আমরা সংবিধান মানি না। কিন্তু যতক্ষণ এই সংবিধান আছে, পরিবর্তনের আন্দোলন করতে পারি, তবে বিদ্রোহ করবো না।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, মানুষকে তার মতো করে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে দল এবং আদর্শের ভিত্তিতে নয়, মেরিট এবং কমিটমেন্টের ভিত্তিতে যাতে সব নাগরিককে মূল্যায়ন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই সেটি ঘটতে পারে। সরকারি এবং বিরোধী দল এক হয়ে কমিটি হওয়ার কারণে তিনি মনে করেন যে, মানুষ আস্থা রেখেছে এবং সংকট কাটতে শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, আমরা বিরোধী দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে আসিনি বরং ২০ কোটি মানুষের কথা বলতে এসেছি। সব ভালো কাজে সহযোগিতা করবো। খারাপ হলে বসে থাকবো না, সমালোচনা করবো।
তিনি শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জিয়াউর রহমান কারো মুখের দিকে তাকিয়ে পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেননি। যারা মজলুম হবে, তাদের পক্ষে আমাদের থাকতে হবে। স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি হতে হবে এবং সীমাহীন বন্ধুর প্রয়োজন আছে, একজন প্রভুরও দরকার নেই।
ডা. শফিকুর রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে আহ্বান করেন। তিনি বলেন, কারো চোখ রাঙানিকে আমরা সহ্য করবো না। সরকার যদি এই প্রকল্প শুরু করে, তবে আমি সরকারের পাশে থাকবো।
তিনি ৪৭ কে সম্মান করি উল্লেখ করে বলেন, ওই সীমারেখাটাই বাংলাদেশের সীমানা এবং কিছু নদী প্রতিবেশীদের পেটে চলে গেছে। অনলাইন এবং অফলাইনে বিভিন্ন অপপ্রচারের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সঙ্গে যাদের অশ্লীলতা হয়েছে, তার বিচার চাননি, তিনি বিচার চান। প্রধানমন্ত্রী কন্যা মানে আমার কন্যা, তাই এই ইতরদের বের করে আনা উচিত। নোংরা ধারা বন্ধ করতে হবে। অপরাধীকে খুঁজতে সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেন৷
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না। এরা হলো নাম ভাঙানো বর্ণচোরা। তিনি এই বিষয়ে শপথ নেন যে, তারা এদের নির্মূল করবেন।
নতুন ইতিহাস রচনা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঐক্যের ডাক দেয়ার আগে দা-কুড়াল ফেলে দেন। ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকলে, নিজেদের ইতিহাস রচনা করতে পারবে না। যে অন্যের দোষ খুঁজে সেই মহৎ হতে পারে না, কিন্তু যে নিজের দোষ খুঁজে পায়, সেটি মহৎ।
এছাড়া সংসদ অধিবেশন দেখতে শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেয়ায় তিনি সাধুবাদ জানান এবং সংসদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের এক মাসের সমপরিমানের ইনটেনসিভ দেয়ারও আহ্বান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এর ফলস্বরূপ দেশের মানুষ কষ্টে আছে বলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, এই সংকট নিরসনে এককভাবে নয়, বরং বিরোধী দলের দেয়া প্রস্তাব গ্রহণ করে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতা করার সময় তিনি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
এই সংকটকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের তাপ বাংলাদেশেও লেগেছে। মানুষ কষ্ট পেয়েছে। এই সংকট নিরসনে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, সরকার তা মেনে নিয়েছে।’
তিনি জানান, সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে। উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে পারবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের গুরুত্ব সহ কাজ করার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আগামী সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে বিশেষ আলোচনার প্রস্তাব দেয়ার মাধ্যমে বলেন, ‘দ্রুত বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে আগামী অধিবেশনে আলোচনা করতে চাই। আমরা চাই মানুষের এই কষ্ট লাঘব করতে।’
তারেক রহমান আরও বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের লক্ষ্য ও গন্তব্য অভিন্ন–তা হলো একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা অনেক বিষয়ে দ্বিমত করতে পারি, কিন্তু দেশের স্বার্থে এবং জনগণের কষ্ট কমাতে আমাদের এক হয়ে কাজ করতে হবে।’
জ্বালানি সংকট ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিয়ে ভবিষ্যতে সংসদকে আরও কার্যকর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার হিসেবে মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ