প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে আবারও মানববন্ধন করেছে সাবেক ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু নেতা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজপথে সক্রিয় ও ত্যাগী ছাত্রদল এবং যুবদলের সাবেক নেতারা এ মানববন্ধনের কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে নেতারা দাবি জানান যে, যুবদলের সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি পুনর্বিবেচনা করা হোক এবং বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
গত ৪ জুন যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত নেতারা এর বিরুদ্ধে বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, ঘোষিত কমিটিতে বিশেষ মহলের 'পকেট কমিটি' ও 'প্রহসনের কমিটি' তৈরি করা হয়েছে। রাজপথের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের বাদ দিয়ে যারা রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়, অপরিচিত, ভীতু ও বিতর্কিত, তাদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
নেতারাদের মতে, বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকর মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়েছে। এমনকি একপর্যায়ে তা তুই-তোকারিতে গড়ায় বলেও দাবি জানিয়ে তারা। এ বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
তাদের অভিযোগ, ১৫১ সদস্যের কমিটির অধিকাংশ নেতাই দলের দুঃসময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন না। বরং কেউ কেউ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অনেকেই নিজেদের পরিবারের সদস্যদের আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচিত করে রাজনৈতিকভাবে 'ব্যালেন্স' করে চলেছেন বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বিএনপি যদি ভবিষ্যতে আবার কোনো দুঃসময়ের মুখোমুখি হয়, তাহলে বিতর্কিত ব্যক্তিরা অনেকেই দল ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন অথবা বিদেশে চলে যেতে পারেন।
তারা যুবদলের বৃহত্তর স্বার্থে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা এবং ত্যাগ স্বীকার করা নেতাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তারা।
এছাড়া যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ বিএনপির চেয়ারম্যানকে অবহিত করতে তার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন পদবঞ্চিত নেতারা।
মানববন্ধনে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, হুমায়ুন কবির, সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল, জাকির হোসেন খান, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক গ্রামবিষয়ক সম্পাদক রিয়ন তালুকদার, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান, মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ মাসুদ, সাবেক সহক্রীড়া সম্পাদক আমান উল্লাহ বিপুল, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহস্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক বাছেদুর রহমান সোহেল, ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আযম সেকত, সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক পাটোয়ারী, ঢাবির জিয়া হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন ইমন, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শরীফ আল ফরহাদ দিপু, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক কাজী মেজবাউল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক নেতা মুজাহিদুল ইসলাম, আনোয়ার জাহিদ, মোহাম্মদ আরিফ, সুমন চৌধুরী, মাসুদ সরকার, সবুর খান সাগর, রাকিবুল ইসলাম রোকন, ফজলুল হক নীরব, জাহাঙ্গীর আলম, ইয়াকুব রাজু, শফিউল আযম, স্বপন কুমার মণ্ডল, রবিউল হাসান আরিফ, নজরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্বজিৎ ভদ্র, ফরিদ খান, মহিবুল্লাহ জয়, সেলিম রেজা, আজিম উদ্দিন মিরাজ, এম কামরুল ইসলাম, খসরু আহমেদ হিরন, কবির আহমেদ, খন্দকার আমিনুল হক আকন, মাজেদুল ইসলাম মাসুম, জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী শোভন, মাইন উদ্দিন বেগ সুজন, নজরুল ইসলাম, এমদাদুল হক পারভেজ, জাহিদুল ইসলাম হিরন, আমির হোসেন বাদশা, মাহমুদ খান, দুলাল মাতব্বর, মাসুদ রানা এবং মানিক হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন