প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকী অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে নিজস্ব একটি জায়গা প্রতিষ্ঠা করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি যেমন সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছেন, তেমনি সৃষ্টি করেছেন আলাদা দর্শক শ্রেণির।
তবে তাঁর কাছে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের সিনেমা হলো ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর ২’।
অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালিত এই সিনেমার মুক্তির পর প্রথমবারের মতো তিনি নিজেকে একজন তারকা হিসেবে অনুভব করেছিলেন। চলতি বছর সিনেমাটি মুক্তির ১৪ বছর পূর্ণ করেছে।
সম্প্রতি এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সিনেমাটির প্রভাব এবং মুক্তির পর তাঁর ক্যারিয়ারে ঘটে যাওয়া নাটকীয় পরিবর্তনের কথা শেয়ার করেছেন অভিনেতা।
‘কমপক্ষে ২০০টি চিত্রনাট্য পেয়েছিলাম’
কোন সিনেমার পর তিনি নিজেকে তারকা মনে করেছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে নওয়াজুদ্দীন বলেন, ‘অবশ্যই, সেটা ‘গ্যাংস অফ ওয়াসেপুর ২’।’
সিনেমাটি মুক্তির পর তাঁর হাতে প্রায় ২০০টি চিত্রনাট্য এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধু চিত্রনাট্যই নয়, অনেক প্রযোজক তাঁর পারিশ্রমিকের অঙ্কও তাঁর ওপর ছেড়ে দিতে প্রস্তুত ছিলেন।
এনডিটিভিকে নওয়াজুদ্দীন জানান, ‘গ্যাংস অফ ওয়াসেপুর ২’ মুক্তির পর আমার কাছে অন্তত ২০০টি চিত্রনাট্য এসেছিল। আমার টেবিলে ব্ল্যাঙ্ক চেক পড়ে থাকত। প্রযোজকেরা বলতেন, ‘এই নিন চিত্রনাট্য আর এই নিন ব্ল্যাঙ্ক চেক। আপনি আপনার পারিশ্রমিক হিসেবে যা খুশি অঙ্ক লিখুন আর আপনার সুবিধামতো ডেট দিন।’
কিন্তু কোনো প্রস্তাবই গ্রহণ করেননি
এত বড় সুযোগ এবং পছন্দমতো পারিশ্রমিক নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা সত্ত্বেও নওয়াজুদ্দীন তাড়াহুড়ো করে পরবর্তী সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হননি। কারণ তাঁর হাতে আসা কোনো চিত্রনাট্যই তাঁকে আকৃষ্ট করেনি।
অভিনেতা বলেন, ‘আমি ওই চিত্রনাট্যগুলোর একটিও বেছে নিইনি কারণ কোনোটিই আমার পছন্দ হয়নি। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে সঠিক সুযোগের জন্য অপেক্ষা করব।’
অপেক্ষা করতে আপত্তি ছিল না
কাজের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার অভিজ্ঞতা তাঁর আগে থেকেই ছিল। তাই ভালো চরিত্রের জন্য আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতেও প্রস্তুত ছিলেন নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, ‘কাজের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করায় আমি অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম; তাই ভাবলাম, তাড়াহুড়ো করে কোনো কিছুতে সই করার চেয়ে আরও দুই-তিন বছর অপেক্ষা করা ভালো।’
তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হয়নি। নিজের পছন্দের কাজের প্রস্তাব আসতে শুরু করে দ্রুতই।
নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকী বলেন, ‘ঈশ্বরের কৃপায় আমাকে খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি, কারণ দ্রুতই আমি সত্যিই চমৎকার কিছু সিনেমার প্রস্তাব পেতে শুরু করি।’
ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর ২’।
‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর ২’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্র ফয়জল খানের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকী। এই চরিত্রটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে ওঠে। সিনেমাটির পর অভিনেতা হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা যেমন বেড়ে যায়, তেমনি বলিউডেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি।
অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালিত সিনেমাটিতে নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকীর সঙ্গে অভিনয় করেছেন মনোজ বাজপেয়ী, পঙ্কজ ত্রিপাঠী, জয়দীপ আহলাওয়াত, হুমা কুরেশি, রিচা চাড্ডা, রাজকুমার রাও ও পীযূষ মিশ্রসহ আরও অনেকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন