প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় দলের অফস্পিনার নাঈম হাসানের সাথে ঘটেছে গত রাতে একটি ভয়াবহ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, যা সৃষ্টি করেছে চরম চাঞ্চল্য। চট্টগ্রামে নিজের বাড়িতে ফেরার সময় নাঈম হাসানকে ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) পরিচয় দিয়ে আটকে মারধর করা হয়, গলা চেপে ধরা হয় এবং পরবর্তীতে সাধারণ একটি প্রাইভেটকারে করে খুলশী থানায় নেওয়ার অভিযোগ এসেছে। কোনো মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের সাথে এমন আচরণে দেশের আইনশৃঙ্খলা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
ভুক্তভোগী ক্রিকেটার নাঈম হাসানের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তার জাতীয় দলের অফিসিয়াল পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) তুলে ধরেন। কিন্তু এতেও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা শান্ত হননি। বরং, তাকে চিৎকার করা বা কথা না বলার জন্য হুমকি দেওয়া হয়।
নাঈম হাসান জানান, তাকে পুলিশি টহল গাড়িতে না নিয়ে সাধারণ একটি প্রাইভেটকারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে খুবই শঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে আশঙ্কা করেন যে, তাকে গুম করা হতে পারে।
গাড়িতে তোলার সময় নাঈম হাসান চিৎকার শুরু করলে আশপাশের স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অভিযোগ এসেছে যে, পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গোপনে এবং কাউকে না জানিয়ে করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছেন, একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার যিনি দেশের জার্সি গায়ে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করেন, তাকেই যদি নিরাপত্তার জন্য জনসমক্ষে এভাবে চিৎকার করতে হয়—তাহলে সাধারণ নাগরিকের অসহায়ত্ব ও নিরাপত্তার অভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা সহজেই বোঝা যায়।
ক্রিকেটার নাঈমের চোখে-মুখে আতঙ্কের যে ছাপ রয়েছে, তা স্রেফ একটি ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা নয় বরং এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের অতি-উৎসাহী ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের দিকেই ইঙ্গিত করে।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর ‘পুলিশ’ নামক পেশার আড়ালে লুকিয়ে থাকা কিছু উগ্র ও হিংস্র মানসিকতার সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। সচেতন নাগরিক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের স্পষ্ট বক্তব্য—আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিতদের আগে মানবিক আচরণ শিখতে হবে। এই ঘটনায় জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনতিবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো নাগরিককে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে না হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন