প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইস্যু নিয়ে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে একের পর এক হুমকি-ধমকি বিনিময় চলছে।
ফলপ্রসূ আলোচনা ছাড়া শেষ হয়ে গেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ। এ কারণে নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে আরও বেশি হুমকি-ধমকি বিনিময় হচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে।
এরই ধারাবাহিকতায়, এবার যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়ঙ্কর এক হুমকি দিয়েছেন ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য ফাদা হোসেইন মালেকি পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে, সেক্ষেত্রে ইরানও সমপর্যায়ের অস্ত্র দিয়ে তার পাল্টা জবাব দেবে।
ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র—এমন একটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বুধবার (১৯ আগস্ট) এই হুমকি প্রদান করেন তিনি বলে খবর এসেছে আনাদোলু এজেন্সির।
মার্কিন পরমাণু হামলার সম্ভাবনা কতটা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করছেন, এই বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় গণমাধ্যমের জিজ্ঞাসার উত্তরে তাকে মালেকি বলেন, আমি ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কোনো অপরিণামদর্শী পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না। তবে আমি মনে করি না, তিনি এমন কিছু করার সাহস রাখবেন। কারণ এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপ বিশ্বকে বিপজ্জনক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
ওই সময় সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল, অর্থাৎ কি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে পরমাণবিক হামলা চালালে ইরানও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে? এ প্রশ্নের জবাবে মালেকি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেই অস্ত্রই ব্যবহার করুক, ইরান তার পাল্টা জবাব সেভাবেই দিবে।
তবে ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে কি না, সে ব্যাপারে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি এই সদস্য। ওয়াশিংটনকে সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ইরানের হাতে একাধিক বিকল্প রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো পদক্ষেপের জবাব সমপর্যায়ে বা তার থেকেও বেশি মাত্রায় দেওয়া হতে পারে।
মালেকি বলেন, তেহরান এখন কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে নেই; বরং সক্রিয় ও আক্রমণাত্মক প্রতিরোধ নীতিতে চলে গেছে। তিনি আরও জানান, ইরানের অনেক অস্ত্র এবং সামরিক সক্ষমতা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, মেহের নিউজ এজেন্সির এক খবরের সূত্রে জানা যায়, ইরানের পরমাণু শিল্পের অগ্রগতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) উপ-প্রধান মেজর জেনারেল মোস্তফা ইজাদি। তিনি জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষ ইরানের পারমাণবিক শিল্প ধ্বংসের চেষ্টা করে আসলেও দেশটি দৃঢ়তার সঙ্গে পরমাণবিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির পথে অক্ষুণ্ণ থাকবে।
ইজাদি বলেন, শত্রুপক্ষ ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে উৎখাত ও বিভক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে সংঘাতে নেমেছিল। কিন্তু ইরানের পারমাণবিক শিল্পে প্রবেশের চেষ্টাসহ সব ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হয়েছে।
ইজাদি জোর দিয়ে বলেন, আমরা দেশের পারমাণবিক, বৈজ্ঞানিক ও উন্নয়নের পথ দক্ষতার সাথে অব্যাহত রাখব।
এর আগে, গত ২৪ জুলাই ইরানের পরমাণু ইস্যুতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির তুলনায় মোজতবা খামেনি আরও বেশি আগ্রহী।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার দিনগুলোতে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হলে, এটি তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরও জানান, মোজতবা খামেনির সঙ্গে ইরানের অন্যান্য কর্মকর্তাদের যোগাযোগও সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। কারণ, আরও বিমান হামলায় লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কায় তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন