প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কখনও প্রেমিককে কেন্দ্র করে, কখনও ছবি হাতছাড়া হওয়া, আবার কখনও কোনও মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হয়েছে পারস্পরিক তিক্ততা। কেউ প্রকাশ্যে একে অপরকে আক্রমণ করেছেন, কেউ বছরের পর বছর মুখ দেখাদেখি বন্ধ রেখেছেন।
এই ঘটনাগুলি বলিউডে নতুন নয়। বলিউডে নায়িকাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন নয়। কখনও প্রেমিককে কেন্দ্র করে, কখনও ছবি হাতছাড়া হওয়া, আবার কখনও কোনও মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তিক্ততা। কেউ প্রকাশ্যে একে অপরকে আক্রমণ করেছেন, কেউ বছরের পর বছর মুখ দেখাদেখি বন্ধ রেখেছেন। এমনই কয়েকটি বহুচর্চিত বিবাদের গল্প ফিরে দেখা যাক।
ঐশ্বর্যা রায় ও রানি মুখোপাধ্যায়: দু’জনের সম্পর্কের অবনতির সূত্রপাত ২০০৩ সালে, এমনই শোনা যায়। শাহরুখ খানের ‘চলতে চলতে’ ছবিটি থেকে ঐশ্বর্যা রায় বাদ পড়ার পরে তাঁর জায়গায় নেওয়া হয় রানি মুখোপাধ্যায়কে। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই ইন্ডাস্ট্রিতে গুঞ্জন ছড়ায় যে, দু’জনের সম্পর্কে অবনতি হয়েছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছিল বিভিন্ন প্রতিবেদনে।
বিতর্ক আরও বেড়ে যায়, যখন অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে রানি ‘বান্টি অউর বাবলি’, ‘যুবা’-সহ একাধিক ছবিতে অভিনয় করেন। পরে অভিষেক ও ঐশ্বর্যার বিয়েতে রানির আমন্ত্রণ না-পাওয়াও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যদিও দুই অভিনেত্রী কখনও প্রকাশ্যে একে অপরকে আক্রমণ করেননি।
দীপিকা পাড়ুকোন ও ক্যাটরিনা কইফ: বলিউডের এই দুই নায়িকার মধ্যে সমস্যা বহু আলোচিত। রণবীর কপূরের সঙ্গে দীপিকার বিচ্ছেদের পর ক্যাটরিনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে। সেই সময় থেকেই দুই নায়িকার সম্পর্কের অবনতি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের দূরত্ব এবং অস্বস্তি বার বার ক্যামেরাবন্দি হয়েছে।
দীপিকা পরে একাধিক সাক্ষাৎকারে প্রতারণার অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন, যদিও কারও নাম নেননি। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলায়। একটি সাক্ষাৎকারে দীপিকাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁর ও রণবীর সিংহের বিয়েতে কি তিনি ক্যাটরিনাকে আমন্ত্রণ জানাবেন? সেই সময়ে দীপিকা সটান ‘না’ বলে দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য দীপিকা-রণবীরের প্রীতিভোজে আমন্ত্রিত হয়েছিল ক্যাটরিনা এবং তিনি সেখানে উপস্থিতও ছিলেন। পরবর্তী সময়ে প্রকাশ্যে একে অপরের কাজের প্রশংসাও করেছেন তাঁরা। পুরনো তিক্ততা অনেকটাই মুছে গিয়েছে বলেই মনে করেন অনুরাগীরা। তবে নিন্দকদের দাবি, সবটাই ক্যামেরায় ভাবমূর্তি বজায় রাখার জন্য।
করিনা কপূর ও বিপাশা বসু: ‘অজনবি’ ছবির শুটিংয়ে পোশাক ও প্রসাধনী নিয়ে দুই অভিনেত্রীর মধ্যে তীব্র মনোমালিন্য তৈরি হয়। সে সময়ে সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, করিনা নাকি বিপাশাকে গায়ের রঙের জন্য ‘কালো বিড়াল’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য আলাদা ছিল।
বিতর্কের পরে দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করেননি তাঁরা। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও পরোক্ষে কটাক্ষের অভিযোগ ওঠে। বহু বছর পরে অবশ্য সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হয়। প্রকাশ্যে সৌজন্য বিনিময় করতে দেখা যায় দুই অভিনেত্রীকে।
কঙ্গনা রনৌত ও তাপসী পন্নু: রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে শুরু করে অভিনয়, প্রায় সব বিষয়েই কঙ্গনা ও তাপসী পন্নুর মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। দুই অভিনেত্রীরই কোঁকড়া চুল। তাই কঙ্গনার বোন রঙ্গোলি চন্দেল একসময় তাপসীকে তাঁর বোনের ‘সস্তা কপি’ বলেছিলেন। সেই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
সমাজমাধ্যমে একাধিক বার পরোক্ষে ও প্রত্যক্ষ ভাবে একে অপরকে আক্রমণ করেছেন দুই অভিনেত্রী। তাপসী অবশ্য বার বার বলেছেন, ব্যক্তিগত আক্রমণে তিনি বিশ্বাসী নন। তবুও তাঁদের দ্বন্দ্ব এখনও বলিউডের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়।
কঙ্গনা রনৌত ও আলিয়া ভট্ট: শুধু তাপসীর সঙ্গে নয়, আলিয়াকেও আক্রমণ করেছিলেন কঙ্গনা। ‘রাজ়ি’ ছবি মুক্তির পরে আলিয়ার অভিনয়ের প্রশংসা করলেও পরে তাঁকেও নিশানা করেন কঙ্গনা। অভিযোগ করেন, আলিয়া ইন্ডাস্ট্রির প্রভাবশালী শিবিরের একনিষ্ঠ অংশ, তাই তিনি পর পর সুযোগ পান।
আলিয়া প্রকাশ্যে কখনও পাল্টা আক্রমণ করেননি। বরং কঙ্গনার সমালোচনার জবাবে সংযত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। কিন্তু কঙ্গনার ধারাবাহিক মন্তব্যে দুই অভিনেত্রীর সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা আজও থামেনি।
প্রিয়ঙ্কা চোপড়া ও করিনা কপূর: দুই তারকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয় ২০০০-এর আশপাশে। একাধিক সাক্ষাৎকারে দু’জনেই পরোক্ষে একে অপরকে কটাক্ষ করেছেন। ‘কফি উইথ কর্ণ’-তে প্রিয়ঙ্কার ইংরেজির বাচনভঙ্গি নিয়ে করিনা কটাক্ষও করেছিলেন। প্রিয়ঙ্কার বাচনভঙ্গিকে ‘নকল’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন করিনা। এই বিষয় নিয়ে আলোচনাও হয়েছিল বিস্তর।
প্রিয়ঙ্কাও পাল্টা জবাবে বলেন যে, করিনার প্রেমিক সইফ আলি খানের কাছ থেকেই তিনি সেই উচ্চারণ শিখেছেন। মন্তব্যটি ভাইরাল হয়েছিল। যদিও পরে প্রকাশ্যে দুই অভিনেত্রীর আচরণে সৌজন্য দেখা যায়। তাঁদের সম্পর্কের বরফ গলেছে বলেই মনে করা হয়।
সোনম কপূর ও ঐশ্বর্যা রায়: একটি প্রসাধনী সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়া নিয়ে দুই অভিনেত্রীর মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সোনম এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বর্যাকে ‘আন্টি’ বলায় বিতর্ক তৈরি হয়। সেই মন্তব্য ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
পরে সোনম জানান, তাঁর মন্তব্য ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ঐশ্বর্যা যদিও প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে বেশি কথা বলেননি। তবুও এই ঘটনাকে বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ বলেও মনে করা হয়।
জয়া বচ্চন ও রেখা: অমিতাভ বচ্চনকে ঘিরে বলিউডের অন্যতম আলোচিত সমীকরণ। দুই অভিনেত্রী প্রকাশ্যে কখনও একে অপরকে আক্রমণ করেননি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কে দীর্ঘদিন দূরত্ব ছিল।
শোনা যায়, জয়া নাকি একসময় রেখাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, তিনি সব সময়ে অমিতাভের স্ত্রী হয়েই থাকবেন। কখনওই বিবাহবিচ্ছেদ করবেন না। যদিও এর পরে এক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে জয়াকে রেখার জড়িয়ে ধরার খবরে বোঝা যায়, এখন সম্পর্ক ভাল হয়েছে।
কঙ্গনা রনৌত ও স্বরা ভাস্কর: রাজনীতি, সমাজ এবং চলচ্চিত্র, প্রায় সব বিষয়েই দুই অভিনেত্রীর মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। সমাজমাধ্যমে পরোক্ষে এবং প্রত্যক্ষ ভাবে একে অপরকে কটাক্ষ করেছেন তাঁরা। তাঁদের দ্বন্দ্ব বলিউডের অন্যতম আলোচিত মতাদর্শগত সংঘাত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন