০৭:০৯ এম
গরমকালে চুল পড়ার পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছেঃ ঘাম, ধুলাবালি এবং মাথার ত্বকের আর্দ্রতা কমে যাওয়া। প্রখর রোদে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। এই অবস্থায় ঘামের কারণে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ বেড়ে চুল ঝরতে থাকে। কারণ গরমে বাইরে বের হওয়া মানেই ঘাম। এই ঘামের সঙ্গে রয়েছে আর্দ্রতা। দুয়ে মিলে যাচ্ছেতাই দশা সৃষ্টি হয়। এর ফলস্বরূপ বাড়ছে চুলপড়া। অনেকের মতামত রয়েছে যে বর্ষার মৌসুমে চুলপড়ার হার বাড়ে। তবে প্রমাণিত সত্য হলো গরমে চুলপড়াও বাড়ে। গরমে বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা অথবা টুপি ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমে চুলপড়ার সমস্যা বাড়ার একাধিক কারণে দেখা দেয়। প্রথমত বাইরের অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে চুলपড়া বাড়ে। চুলের গোড়ায় ঘাম জমার ফলে গোড়ার দুর্বলতা সৃষ্টি হওয়ায় চুল পড়ে। কারও কারও মতে, গরমে ঘামের ফলে শরীরে পানিশূন্যতার সমস্যা তৈরি হয়, যা চুলপড়ার সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই যদি এসব সমস্যা থেকে চুলকে রক্ষা করা যায়, তাহলে সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
আপনাদের জন্য কিছু কার্যকরী পরামর্শ রয়েছে চুলপড়া রোধে। কয়েক দিন অন্তর অন্তর শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তবে অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার ভুল করেও ব্যবহার করবেন না। কারণ এতে চুলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। গরমের কারণে ক্লান্তিবোধ বেশি অনুভূত হয়, তাই সঠিকভাবে ঘুমান। কম ঘুম চুলের ক্ষতির একটি কারণ। বারবার কাঠের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানো খুব উপকারী। এর মাধ্যমে স্ক্যাল্প সুস্থ থাকে এবং চুলপড়ার সমস্যা দূর হয়।
আরও পড়ুন: জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার মা-রা গেছেন
চুলপড়া রোধে কয়েকটি কার্যকরী ঘরোয়া উপায় জানানো হলো। প্রথমত, মেথি এবং নারিকেল তেলের ব্যবহার। মেথিকে সারারাত ভিজিয়ে রেখে এরপর বেটে নিন। এর পরে এটি নারিকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগান এবং ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। মেথিতে থাকা প্রোটিন ও নিকোটিনিক অ্যাসিড চুলের গোড়া শক্ত করে।
এছাড়া পেঁয়াজের রস ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। পেঁয়াজের রসে উপস্থিত সালফার চুলের পুনর্গঠনে সহায়ক। সপ্তাহে দুদিন পেঁয়াজের রস মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেললেই এটি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।
অ্যালোভেরা জেলও মাথার ত্বকের জ্বালাপোড়া কমায় এবং পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে। তাজা অ্যালোভেরা জেল সরাসরি মাথায় লাগিয়ে ৪০ মিনিট রাখুন এবং পরে ধুয়ে ফেলুন। একই সঙ্গে টকদই ও লেবুর রসও ব্যবহার করা যেতে পারে। টকদই চুলের জন্য একটি প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। টকদইয়ের সঙ্গে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে চুলে লাগালে খুশকি দূর হয় এবং চুলের গোড়া শক্ত হয়। আমলকীর রসও চুলের যত্নে অত্যন্ত উপকারী। কারণ আমলকীতে প্রচুর ভিটামিন-সি থাকে, যা কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। আমলকীর রস বা গুঁড়ো নারিকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথায় ম্যাসাজ করলে চুলপড়া অনেকটাই কমে যায়।
আরও পড়ুন: কাবাডি খেলোয়াড় মিথিলাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন