প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নাটোরের লালপুর উপজেলায় ব্রিকফিল্ডের ব্যবসায়ীর বাড়িতে দীর্ঘ এক ঘণ্টাব্যাপী ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত ভোর চারটার দিকে উপজেলার জোতদৈবকি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, ব্রিকফিল্ড ব্যবসায়ী আব্দুল হালিমের বাড়িতে ভোর প্রায় চারটার সময় হামলা চালানো হয়। হামলার নেতৃত্বে ছিলেন দক্ষিণ লালপুর গ্রামের সানাউল্লাহর ছেলে সাকলাইন। তার সঙ্গে ছিল লোকমানের ছেলে মোহনসহ ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি।
ভুক্তভোগী আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় নগদ ৩২ লাখ টাকা, প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মোট প্রায় ৫৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন যে হামলাকারীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে এই হামলা চালিয়েছে।
হালিমের স্ত্রী মোছা. মুন্নি বেগম অভিযোগ করেন, হামলার সময় সাকলাইন তাদের মেয়ের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। এ ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল হালিম বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা। অপরদিকে অভিযুক্ত সাকলাইন স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং তার পরিবারের সদস্যরাও একই রাজনৈতিক দলে রয়েছে বলে এলাকায় পরিচিত।
ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, এ ঘটনার পেছনে পূর্ব শত্রুতা এবং জমিজমার বিরোধের বিষয় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়দের একটি অংশ জানিয়েছেন।
তবে অভিযুক্ত সাকলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল, কিন্তু তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, 'এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রকাশ্যে এ ধরনের হামলার ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন